প্রতিদিন ৬০০ রোহিঙ্গাকে ত্রাণ দিচ্ছে সী-গাল হোটেল

Seagull-6.jpg

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ তুলে দেন সী-গাল হোটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী।

বিশেষ প্রতিবেদক:
মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৬০০ রোহিঙ্গাকে নিয়মিত ত্রাণ হিসেবে বিভিন্ন প্রকারের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করছে কক্সবাজারের পাঁচ তারকা মানের আবাসিক হোটেল সী-গাল।
তারা প্রতি জনকে দিচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রান্না করা উন্নতমানের প্যাকেটজাত পুষ্টিকর খাবার (ভুনা খিচুড়ি ও চিকেন), ১ কেজি করে বিস্কুট, ৫০০ মিলি তরল দুধ ও পানীয় জ্বলের বোতল।
বিগত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের ত্রাণ তৎপরতা আরম্ভ হয়েছে। প্রতিদিন একই নিয়মে কর্মসুচি অব্যাহত রয়েছে।
এ পর্যন্ত টেকনাফ, উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী এলাকার অন্তত সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা সী-গালের ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
সুত্র জানায়, সী-গালের এই ত্রাণ সরবরাহ কাজে নিয়মিত পরিশ্রম করে চলেছে তাদের নিজস্ব দক্ষ, পরিশ্রমী কর্মী বাহিনী।

সী-গাল হোটেলের ত্রাণ নিতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ লাইন।

প্রতিনিদের ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক তদারক করছেন ব্যবস্থাপক মোঃ হারুন-অর রশীদ, প্রধান হিসাব রক্ষক শহীদ হোসেন খান ও সহকারী ব্যবস্থাপক (খাদ্য ও পানীয়) মোঃ এনায়েত উল্লাহ।
সোমবার কথা হয় কুতুপালং এলাকায় ষাটোর্ধ এক নারীর সাথে। তার নাম রমিজা বেগম। মিয়ানমারের মংডু থেকে এসেছেন ১০ দিন আগে। সাথে স্বামীসহ পরিবারের ৬ সদস্যও এসেছেন। ৬ দিন অভুক্ত থেকে তারা বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে।
তিনি আসার পরপরই সী-গালের ত্রাণের প্যাকেট হাতে পান।
রমিজার কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘চোখের সামনে অনেক পাড়াপড়সীকে মেরে ফেলেছে মিয়ানমারের মগরা। ধরে নিয়ে গেছে অনেককে। নির্যাতনে অসহ্য হয়েপাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে চলে এসেছি। আসার পথে ৬ দিন মতো খাবার ও পানীয় চোখে দেখিনি। বাংলাদেশে ঢুকেই প্রথমে খাবার পাই।’
আর অভুক্ত এই বৃদ্ধ নারীর মতো আরো শত শত অভুক্ত মানবের মুখে খাবার তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সী-গাল হোটেল। যা সত্যিই মানবিক। এ জন্য সী-গাল কর্তৃপক্ষের কাছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম ইকবাল চিকিসার্থে অমেরিকায় অবস্থান করছেন। ওখান থেকে তিনি ত্রাণ তৎপরতার নির্দেশনা ও সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। ছেলে আজিজ ইকবাল (পরিচালক) ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাবাকে উৎসাহ যোগাচ্ছেন।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে আমরা প্রতিদিন প্রায় ৬০০ রোহিঙ্গার খাবার ও পানীয় জাতদ্রব্য সরবরাহ করছি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আমাদের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

 

Top