ইমাম খাইর, সিবিএন:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সময় মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় কক্সবাজারের লংবীচ হোটেলে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার যদি সময় মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতো তাহলে সংকট এত প্রকট হতো না। রোহিঙ্গারা আসার পরও আমরা তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছিলাম। কিন্তু সরকার কথাকে পাত্তাই দেয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সময় মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, যখন রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে, তখন মিয়ানমারের সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারও রোহিঙ্গাদের দমনে যৌথ অপারেশনের ঘোষণা দেয়। এমনরকি সরকারের একটি বাহিনী প্রধানও রোহিঙ্গাদের কঠোর হস্তে দমনের কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার লোকচুরি না করে শুরুতেই মিয়ানমার সরকারকে চাপে রাখলে এবং কুটনৈতিক তৎপরতা চালালে এত বেশী রোহিঙ্গাকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসতে হতো না। নাফ নদীতে লাশের পরিমাণ বাড়তোনা। এটা সরকারের চমর ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ টেনে রিজভী আরো বলেন, খালেদা জিয়া যখন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অশ্রয় দেয়ার কথা বলেন তখন সরকারের মন্ত্রী এমপিরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে সেনা বাহিনীর প্রয়োজনীয় আজ প্রমাণিত। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু আরো আগে বিএনপি যখন সেনা মোতায়েনের দাবী তুলে তখন সরকার তাতে পাত্তা দেয়নি।

আওয়ামী লীগকে টোরোরিস্ট লীগ দাবী করে রিজভী বলেন, মিয়ানমার সরকারের নীতির সাথে আওয়ামী লীগের কোন অংশে পার্থক্য নাই। আওয়ামী লীগ এখন টেরোরিস্ট লীগ হয়ে গেছে। সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপের সাথে তাদের মিলে যায়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। সরকারের বৈরী মানসিকতার কারণে অনেকে ত্রাণ নিয়ে যেতে সাহস করছেনা। মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের সহায়তার পথ নির্বিঘ্ন করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে কোন ধরণের বাঁধা সৃষ্টি করা উচিত হবেনা। আওয়ামী বিএনপির ত্রাণের ২২ টি ট্রাক আটকে দিয়ে অমানবিক আচরণের পরিচয় দিয়েছে।

রিজভীর মতে, যে কোন জাতীয় দুর্যোগে বিএনপি বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও সরকার তা পাত্তা না দিয়ে ‘একলা চলো’ নীতি গ্রহণ করে। যা একদলীয় ও স্বৈর শাসকের মূল চরিত্র। অনির্বাচিত এই সরকারের মধ্যেও একই চরিত্র ফুটে ওঠেছে।

মিয়ানমারের সরকার প্রধান অংসান সু চির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণটি খতিয়ে দেখবেন বলে অংসান সু চির ঘোষণাটি মানবতার সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। তার বক্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর একটি অজুহাত। তার কথার ঢংয়ে মনে হয় রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার বলে কিছু নেই।

রিজভী বলেন, নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার আর এখানে এসে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। বেঁচে থাকার জন্য খাবারের প্রয়োজন আর সুস্থতার জন্য স্যানিটেশন। কোনোটাই পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রতিদিন অনেক নারী-শিশু মারা যাচ্ছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, অবস্থা দেখে মনে হয় ট্রাম্পের কাছে অটোগ্রাফ নিতেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কাছে গিয়েছিলেন।

প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সফু, মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, বিএনপির চেয়ার পার্সনের প্রেস উইং শামসুদ্দিন দিদার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মনির উদ্দিন মনির প্রমুখ।

এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ ১২শ নির্যাতিত রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (ড্যাব) কর্তৃক পরিচালিত জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তার টিমের সদস্যরা।
বিএনপির কন্ট্রোল রুম:
রোহিঙ্গাদের মাঝে সুষ্টু ত্রাণ বিতরণসহ তাদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে  কন্ট্রোল রুম খুলেছে বিএনপি।
রোববার প্রেস ব্রিফিং শেষে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুপ বদরীকে কন্ট্রোল রুমের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুমে সার্বিক সহায়তার জন্য যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য এম. মোকতার আহমদকে যুক্ত করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •