রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির শঙ্কায় সেভ দ্য চিলড্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকেই খাবার, পানি ও আশ্রয়ের অভাবে মৃত্যুর মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। রোববার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ভয়াবহ এ বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখে পশ্চিম রাখাইন থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসিলিম বাংলাদেশে পালিয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনে পাঠ্য বইয়ের উদাহরণ’ হিসেবে মন্তব্য করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পায়ার্স রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনেক মানুষ ক্ষুধার্ত, পরিশ্রান্ত অবস্থায় বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। তাদের কাছে কোনো খাবার অথবা পানি নেই।

তিনি বলেন, আমি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, খাবার, আশ্রয়, পানি ও মৌলিক স্বাস্থ সুরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখনো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। যদি এই পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ না হয়, তাহলে দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে; এতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা; দীর্ঘসময় ধরে এই রোহিঙ্গাদের স্রোত অব্যাহত আছে বাংলাদেশের দিকে। মিয়ানমারে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মনে করে করা হয় রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওইদিন রাখাইনে পুলিশের ৩০টি ও সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ১২ পুলিশ নিহত হয়।

পায়ার্স বলেন, মানবিক ত্রাণ তৎপরতার গতি দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তহবিল বাড়ালেই এটি করা সম্ভব।

জাতিসংঘ বলছে, রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযান জাতিগত নিধনের শামিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলমান সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা। আগামী কয়েকদিনে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখী এই স্রোত আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

নতুন পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গা কক্সবাজারের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে, রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে, কাঁদা মাটিতে কোনো রকমে দিন পার করছেন। শরণার্থী শিবিরের আশ-পাশে ত্রাণবাহী ট্রাক দেখলেই ছুটছে সেদিকে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের কাপড় বিতরণের সময় শুক্রবার দুই শিশুসহ এক রোহিঙ্গা নারী পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।

রাখাইনে শুদ্ধি অভিযানের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার বলছে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (এআরএসএ) বিদ্রোহীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন পরিচালনা করছে। গত বছরের অক্টোবরে এবং গত আগস্টে পুলিশের পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবভিত্তিক রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠন।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাখাইনে অগ্নিকাণ্ড ও বেসামরিক হত্যার অভিযোগ এনেছে এআরএসএ’র বিরুদ্ধে।

সূত্র : রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট।

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা’র অভিযোগ! (ভিডিও)

মায়ের সহায়তায় মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করতো পিতা!

নাইক্ষ্যংছড়িতে চোলাই মদসহ ১ জন আটক

জরিমানায় ফিরতে পারবেন মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিরা

শহরে এআরসি টাওয়ার ভবনে আগুন

এইচএসসিতে কক্সবাজারের ২৪ কলেজের কার কী অবস্থান!

সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান?: কাদের

মানুষের ভালোবাসার ঋণ শোধের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছি

ডেঙ্গু এখন চিন্তার বিষয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী

কুতুপালং ক্যাম্পে ইটভর্তি ট্রাক উল্টে রোহিঙ্গা মা ও ছেলে নিহত

সায়মুন সংসদ যা করে সবই সমাজের কল্যাণে : অধ্যক্ষ ক্য থিং অং

ওসি আবুল খায়ের’র রামু থানায় যোগদান

মনিরঝিলের পাগলী গুলফরাজকে বেদম প্রহার : দোষীদের শাস্তি দাবী

জন্নাতুল বাকীতে চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক আনোয়ারের পিতা

টেকনাফে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন

এইচএসসিতে চকরিয়ায় উপজেলায় সেরা চকরিয়া কলেজ, ফল বিপর্যয় চকরিয়া সিটি কলেজের

যারা ফেসঅ্যাপে বুড়ো হয়েছেন তাদের জন্য দু:সংবাদ

সেতু নির্মাণের আড়াই বছরেও হয়নি পাকা সংযোগ সড়ক

লামায় বন্যা আক্রান্তদের সেবায় হোপ ফাউন্ডেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প