ডেস্ক নিউজ:

ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন এ দলটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হলেও নিজেরা পুরোপুরি ডিজিটাল হতে পারেনি। কেন্দ্রীয় সংগঠনের ওয়েবসাইট থাকলেও তা হালনাগাদ নেই। তৃণমূলে তো ডিজিটালের কোনও ছোঁয়াই লাগেনি। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ চলে এখনও সেই পুরনো কায়দায়। সেই তুলনায় আওয়ামী লীগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ডিজিটালে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। দলটির ওয়েবসাইট হালনাগাদসহ সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রমও নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠনকে ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের সৌজন্যে প্রতিটি জেলায় একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করা হলেও, তা ঠিক মতো ব্যবহার করা হচ্ছে না। বেশিরভাগ জেলা কমিটি এখনও তাদের ল্যাপটপ চালু না করার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা জেলা অফিসে নিরাপত্তা না থাকার অজুহাত তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের অফিসিয়িাল ওয়েবসাইট- albd.org পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল সর্বশেষ দলীয় ‘সংবাদ’ হালনাগাদ করা হয়েছে। আর তৃণমূলের সংবাদ সর্বশেষ আপডেট হয়েছে ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। দলীয় সভাপতি-প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি মোটামুটি হালনাগাদ করা হয়। তবে সেক্ষেত্রেও ওয়েবসাইটটি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে আটটার দিকে দেখা গেছে, বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ওইদিনই ষোড়শ সংশোধনী নিয়েও সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন। পরের দিন (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদের সমাপনী ভাষণ দিলেও সেগুলো ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে ঢাকা ত্যাগ করলেও সেই খবর দলের ওয়েবসাইটে স্থান পায়নি।

আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে দলের যে গঠনতন্ত্র রয়েছে, সেটাও পুরনো। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে অনুমোদিত গঠনতন্ত্রটি আপলোড করা আছে। কিন্তু ২০১৬ সালের সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সর্বশেষ সংশোধন করা হলেও, সেটা ওয়েবসাইটে সন্নিবেশ করা হয়নি।

ওয়েবসাইটে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জীবনীও আপডেট নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দল বিজয়ী হলে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। এই তথ্যও জীবনীতে উল্লেখ নেই। এছাড়া,তিনি চলতি মেয়াদ ও আগের মেয়াদে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পদক পেলেও তা উল্লেখ নেই।

ওয়েবসাইটের সংগঠন অংশে বর্তমান কমিটির নেতাদের নাম থাকলেও অ্যাড্রেসবুকে যে ঠিকানা দেওয়া আছে, তা পুরনো কমিটির। সেখানে অন্যদের মতো সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে রয়েছে প্রয়াত জোহরা তাজউদ্দিনের নাম ও ঠিকানা। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে ওয়েবসাইটটির দেখভালের দায়িত্ব দলের গবেষণা সেল সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন)কে দেওয়া আছে। ওয়েবসাইটের তথ্য সংযোজন-বিয়োজন তারাই করে।’

সিআরআইয়ের কর্মকর্তা তন্ময় আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি রয়েছে। আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়েবসাইটির মোবাইল ভার্সনসহ ইউজার ফ্রেন্ডলি করছি।এ মাসেই সেটা চালু হবে। তখন আপনারা সবকিছুর হালনাগাদ তথ্য পাবেন।’

দফতর সূত্রে জানা গেছে, দলের তৃণমূল পর্যায়ের ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এখনও ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতেই চলছে। অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ে কোনও ই-মেইল আইডি নেই। ফলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়, অথবা কুরিয়ার সার্ভিসে চিঠি পাঠাতে হয়। এর ফলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত দ্রুত তৃণমূলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেন্দ্রের সঙ্গে বেশিরভাগ যোগাযোগই মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোনে হয়। তবে কোনও কাগজপত্র পাঠানোর প্রয়োজন হলে, সেগুলো আমরা কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠাই। কেন্দ্র থেকেও আমরা একইভাবে পেয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘দল থেকে আমরা একটি ল্যাপটপ পেয়েছি। তবে সেটার ব্যবহার এখনও শুরু করিনি। ল্যাপটপ ব্যবহার শুরু করলে হয়তো ই-মেইলসহ ইন্টারনেটভিত্তিক অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবো।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর একাধিক সদস্যের ওয়েবসাইল হালনাগাদ না থাকার বিষয়ে কথা হয়। পরে তারা নিজেরাও বিষয়টি যাচাই করে দেখেন এবং হালনাগাদ না থাকায় বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

বিপ্লব বড়ুয়া এ বিষয়ে জানান, জরুরি কিছু হলে তৃণমূলের সঙ্গে তারা মোবাইল ফোনে তথ্য আদান-প্রদান করে। এছাড়া, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও চিঠিপত্র বিনিময় করেন।

তবে আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউব নিয়মিত হালনাগাদ হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •