জাহেদুল ইসলাম, উখিয়া থেকে:

উখিয়া উপজেলার সদর বাজার থেকে শুরু করে টেকনাফের সাবরাং নয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পাশে ক্ষুধার্ত মানুষ আর মানুষ।

তবে, এখানে অবস্থান নেয়া লোকদের মাঝে অধিকাংশই পুরাতন রোহিঙ্গা। তাদের কারণে নতুন রোহিঙ্গারা অসহায় বলে জানা গেছে।

উখিয়ায় রয়েছে ৫ টি বড় বড় ক্যাম্প এরমধ্যে বেসরকারী হিসেবে তাজনির মার খোলা ক্যাম্পে দুই লাখ, হাকির পাড়া ক্যাম্পে দেড় লাখ, জামতলী ক্যাম্পে ৪০ হাজার, বালুখালী ক্যাম্পে দুই লাখ, খাইনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ হাজার, লাম্বার এশিয়া পাহাড়ে ১ লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছে। এসব ক্যাম্পে কোন কোন ভাবে সাহায্য গেলেও লাম্বার এশিয়া পাহাড়ে এক লক্ষ রোহিঙ্গা থাকলেও গত ১০ দিন কোন ত্রাণ যায়নি বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এসে অভিযোগ করেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। কারণ হচ্ছে ওই এলাকায় গাড়ি যাওয়ার কোন ব্যবস্থ্যা নেই। ফলে কোন সংস্থা বা ব্যক্তি ত্রাণ নিয়ে যায়নি।

এ পাহাড়ে আশ্রিত মিয়ানমারের লেংসি থেকে আসা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, আমি গত তিন ধরে কিছুই খায়নি, শুনছি বাঙালিরা এতো ত্রাণ দিচ্ছে কয় আমি তো একটি লজেন্স পায়নি। আমাদের লাম্বার এশিয়া পাহাড়ে আমরা গত ১০ দিনে কোন ত্রাণ পায়নি। তাই আমার এক রোহিঙ্গা আত্মীয় থেকে খোঁজ নিয়ে আমরা কয়েকজন এখানে আসলাম।

অন্যদিকে যেসব ক্যাম্পে ত্রাণ যাচ্ছে ওইখানেও বিশৃঙ্খলার কারণে কেউ পাচ্ছে কেউ পাচ্ছে না। যারা ক্যাম্প ছেড়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়েছে মূলত তারাই কিছুটা ত্রাণ পায়। এছাড়াও অনেকে জানে না কে কখন কোথায় ত্রাণ দিচ্ছে।

উখিয়া কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের সড়কের পাশে চলে এসেছে রোহিঙ্গারা। ত্রানের গাড়ি আসলেই দৌঁড় দেয় শরনার্থীরা। এতে কেউ পাই কেউ পাই না। তবে যারা ত্রান দিতে আসে তাদের কষ্টের সীমা থাকছে না।

রোহিঙ্গাদের ত্রান দিতে আসা সাংবাদিক ও সমাজকর্মী কামাল শিশির বলেন, বিভিন্ন সংস্থা থেকে যে সব ত্রান রোহিঙ্গাদের জন্য আসতেছে সেসব ত্রান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করলে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে সঠিক ভাবে বিতরণ হবে। এখন যেসব ত্রান বিতরণ হচ্ছে কেউ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছে না। তাই সরকারকে এ উদ্দ্যোগ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •