রোহিঙ্গা নির্যাতন জাতিগত গণহত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংসদ সাইমুম সরওয়ার বলেন, এই মুহুর্তে রোহিঙ্গা ইস্যুটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ষ্পর্শকাতর। পৃথিবীর অনেক দেশে নির্যাতন দেখেছি; কিন্তু রোহিঙ্গাদের উপর চলমান মিয়ানমার বাহিনীর মত এত জঘন্য নির্যাতন আর দেখিনি। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে সেখানে। রোহিঙ্গাদের গ্রাম গুলো জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটি জাতিগত গণহত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়া আর কিছু নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে করণীয় বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভি আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে সাংসদ এ তাগিদ দেন। তিনি কক্সবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচিত। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী সাগরপাড়ের একটি তারকামানের হোটেলে এ গোল টেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে নারী ও শিশুদের উপর বর্বর নির্যাতন চলছে। এক আইলানের ছবি দেখে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়ে উঠেছিল। কিন্তু নাফ নদীতে এখন হাজারও আইলানের নিথরদেহ ভাসছে। এটি এখন রক্ত নদীতে পরিণত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গা শূন্য করাই মূলত মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

গোল টেবিল বৈঠকে অংশ নেন মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক মিশন প্রধান মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, ইউকে স্কুল অব ল’র বিভাগীয় প্রধান প্রশান্ত ভূষন বড়–য়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের বিভাগীয় প্রধান ড.এবিএম আবু নোমান, স্থপতি দেলোয়ার মজুমদার, সুজন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আখতার কবির, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের সহকারি পুলিশ সুপার বাবুল বনিক, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নজিবুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ড. আশরাফুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যমুনা টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জামসেদ চৌধুরী।

ড. এবিএম আবু নোমান বলেন, মিয়ানমারের সংবিধানের মত এত জঘন্য সংবিধান আর নেই। এই সংবিধানে রোহিঙ্গাদের কোন অধিকারই নেই। এমনকি তারা রাজ্যহীন নাগরিক। তাদের লিগ্যাল কোন পরিচয় নেই। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে এসে আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, স্বাধীনভাবে চলাফেরাসহ সব ধরণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে বাসযোগ্য পরিবেশ প্রতিষ্টা করতে হবে। তারপর রোহিঙ্গারা সেখানে ফেরত যাবে। ইতিমধ্যে বিশ্ব সম্প্রদায় যেভাবে এগিয়ে এসেছে সেটাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।

স্থপতি দেলোয়ার মজুমদার বলেন, সশস্ত্র সংঘাতে না গিয়েই সমাধানের পথ বের করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সমাধানের পথ খোঁজতে হবে। এবং অবশ্যই সমাধান করতে হবে। তা নাহলে একেক একজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একেকটি টাইম বোমা হয়ে দাঁড়াবে।

প্রশান্ত ভূষণ বড়–য়া বলেন, ইউরোপের দেশ গুলো যেখানে শরণার্থী নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে; সেখানে বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে। কিন্তু এটা এদেশের সংকট নয়। এটা মিয়ানমারের সংকট। সংঘাতে না জড়িয়ে কূটনৈতিকভাবেই সেখানে সমাধানের উপায় বের করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •