বাইশারীতে শিক্ষকের অনন্য দৃষ্টান্ত

vvv.jpg

আব্দুর রশিদ, বাইশারী:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী শাহ্ নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুর গত মঙ্গলবার নিজ এলাকা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার অসীম সাহসিকতাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ এলাকাবাসী ধন্যবাদ জানান।

গত ১২ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তিনি নিজ ব্যবসায়ী কাজে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সকাল ৯টার সময় রামু উপজেলার কাউওয়ার খোপ ইউনিয়নের মহেশকুম এলাকায় পৌঁছে দেখতে পায় একটি মাইক্রোবাস এক শিশু ছাত্রকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ধাক্কা দিয়ে বাঁকখালী নদীতে ফেলে দেয়। ঐ সময় নদীর পানি থৈ থৈ করছিল। তবে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে থাকলেও কেউ তাকে উদ্ধারের সাহস করে নাই। কিন্তু উক্ত শিক্ষক সিএনজি গাড়ি থামিয়ে নদীর গভীর ¯্রােতে ঝাঁপ দিয়ে ঐ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তার এই সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন এখন শুধু এলাকার মানুষের মুখে মুখে নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বহুলভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্ধারকৃত শিশুটি পূর্ব কাউওয়ার খোপ গ্রামের বাসিন্দা জাফর আলমের পুত্র মিছবাহ উদ্দিন (৭), সে স্থানীয় মরহুম ওসমান সরোয়ার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি ছাত্র। শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও সে এখন প্রাণে বেঁচে নাই। গতকাল নিজ এলাকায় ফেরত আসলে মাওলানা আব্দুল গফুরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাঁকখালী নদীর গভীর ¯্রােত থেকে কিভাবে সেই শিশু ছাত্রকে উদ্ধার করেছেন সে নিজেই এখন হতবাক। তিনি শিশুটির জন্য আল্লাহ দরবারে প্রার্থনা করছেন, যাতে শিশুটিকে জান্নাত দান করে।
মাওলানা আব্দুল গফুরের সাথে থাকা আরেক যাত্রী মাওলানা আবুল কাশেম জানান, স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার না করে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিল। কিন্তু শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুর সিএনজি থামিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই দৃষ্টান্ত নজির বিহীন বলে তিনি মনে করেন।

Top