নিউ ইয়র্কেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজছে ভারত

ডেস্ক নিউজ:
নিউ ইয়র্কে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেই যাতে রোহিঙ্গা সংকটের একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরোয়, তার জন্য পর্দার অন্তরালে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ভারত। এই প্রচেষ্টার প্রধান লক্ষ্য হলো- মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এলে তা ঠেকানো । পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত সামলাতে বাংলাদেশকে সাহায্য করা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট ভারতকে এক নজিরবিহীন ‘ডিপ্লোম্যাটিক ডিলেমা’র (কূটনৈতিক দ্বিধা) মধ্যে ফেলে দিয়েছে ।কারণ,এই সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে। অথচ এই দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব ভাল।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারত কিভাবে রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিজেদের ভূমিকা রাখতে পারে, এখন তা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য হলো- এমন একটা ফর্মুলা প্রস্তাব করা, যা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই স্বার্থরক্ষা করে এবং দু’পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়।

ভারতের কূটনৈতিক মহলের এই প্রচেষ্টার নানা দিক সম্বন্ধে যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা এরকম:

ক. ভারতের অনুমান, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যে বিতর্ক শুরু হবে, সেখানে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ) ভুক্ত বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতে পারে। এমনকি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রস্তাব আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত সর্বশক্তি দিয়ে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে।

সে ধরনের কোনও প্রস্তাব যদি নিরাপত্তা পরিষদে ওঠে,আর চীন যে তাতে ভেটো দেবে এটাও ভারতের একরকম জানাই। কিন্তু ভারত মিয়ানমারকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, রোহিঙ্গা প্রশ্নে তারা বরাবরের মতোই পুরোপুরি মিয়ানমারের পাশে আছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ওআইসি দেশগুলো কতটা কঠোর অবস্থান নিতে চায়, সেটা আঁচ করতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর ইতোমধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

খ. রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে নরেন্দ্র মোদির নীরবতায় বাংলাদেশে যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও ভারত অবহিত। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী দু’দিন আগেই এ ব্যাপারে তাদের (বাংলাদেশের) উদ্বেগের কথা ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করকে জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরই নতুন করে একটি বিবৃতিতে রাখাইন স্টেট থেকে শরণার্থীদের ঢল নামার বিষয়ে ভারত উদ্বেগ ব্যক্ত করে। কিন্তু ওই বিবৃতিতেও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি ভারত।

এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে, লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সামলানোর বিষয়ে বাংলাদেশ যাতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পায়, তা নিশ্চিত করা। এই সাহায্য শুধু আর্থিক সহায়তা বা ত্রাণসামগ্রী দিয়েই নয়, পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো যাতে কিছু কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, ভারত সেই দাবিও তুলতে পারে।

দিল্লিতে সাউথ ব্লকের একটি সূত্রের কথায়, ‘সিরিয়া-ইরাকের শরণার্থীদের যদি ইউরোপের সব দেশ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে আশ্রয় দিতে পারে, এমনকি তারা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রেও যেতে পারেন, তাহলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও তা করতে অসুবিধা কোথায়?’

গ. কিন্তু এক্ষেত্রে একটা বড় মুশকিল হলো, ভারত নিজেই ঘোষণা করেছে, এ দেশে বসবাসকারী চল্লিশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জানিয়ে দিয়েছেন, এই রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী। ফলে তাদের ভারতে থাকার কোনও অধিকার নেই।

তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত সেই নীতি আপাতত স্থগিত রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে। বাংলা ট্রিবিউন আভাস পেয়েছে, নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে গড়ায়, তার ওপর নির্ভর করে ভারত রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ করে দিতেও প্রস্তুত। ইউরোপ-উত্তর আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যদি বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের দশ-পনেরো হাজার করে ভার নিতে রাজি হয়, তাহলে ভারতও এই চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গাকে এখনকার মতো মেনে নেওয়ার কথা ভাববে।

ঘ. এ বছর নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাচ্ছেন না । তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের ব্যক্তিগত সমীকরণ অত্যন্ত মধুর। ভারত আশা করছে, মিস স্বরাজ শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতের বাধ্যবাধকতার দিকটি তাকে বোঝাতে পারবেন । একই সঙ্গে ভারত যে বাংলাদেশের বিপদে মোটেও নির্বিকার নয়, সেই বার্তাটিও দিতে পারবেন।

তবে এই কূটনৈতিক ভারসাম্য বিধানের পরিকল্পনা করা যত সহজ, বিষয়টি বাস্তবে করে দেখানো যে তার চেয়ে অনেক কঠিন , ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তা বিলক্ষণ জানেন।

ফলে আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ভারতের জন্য এক দুরূহ কূটনৈতিক পরীক্ষা। রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারকে তারা চটাতে পারবে না, একই সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্বেগেও শরিক হতে হবে ও তাদের বোঝা লাঘব করার চেষ্টা চালাতে হবে!

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারল আর্জেন্টিনা

টেকনাফে রোহিঙ্গা কর্তৃক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

টেকনাফের রোজারঘোনায় ইয়াবা আসর

পেরুকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ফ্রান্স

কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরাম ঢাবির কমিটি অনুমোদন

মাসিক কল্যাণ সভায় লোহাগাড়া থানার ওসিসহ ৩ এসআই পুরস্কৃত

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ হাবিব উল্লাহ’র জামিন লাভ

যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার এখনই সময়- হোয়ানকে ড. আনসারুল করিম

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম

ইসলামপুরে মেহেদীর রং না শুকাতেই যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

নেইমারভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর

শাহ মোহছেন আউলিয়ার বার্ষিক ওরশে নেমেছিল ভক্তদের

মহেশখালী-কুতুবদিয়ার লবণচাষীদের ঋণ মওকুপ করুন- সংসদে এমপি আশেক

আজ ক্রোয়েশিয়া-আর্জেন্টিনা লড়াই, মেসি ম্যাজিকের অপেক্ষায় সারা বিশ্ব

জ্যোতিষী বিড়াল কি বললেন – আর্জেন্টিনা নাকি ক্রোয়েশিয়া?

উখিয়ায় ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলায় নিন্দা ও ক্ষোভ

খুরুশকুল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন’র মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

নাইক্ষ্যংছড়ির নতুন ইউএনও রামুর সাদিয়া

আর্জেন্টিনার পতাকায় বিয়ের গেট, শ্বশুরবাড়িতে যাবেন না নববধূ

ঈদগাঁওতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২