গণহত্যাকারী মিয়ানমার জান্তা সরকারের বিচার করবে কে?

myanmar-20170906105229.jpg

এইচ এম আবু ছিদ্দিক :

অত্যাচারী জুলুমবাজ পুঁজিবাদী শাসকদের অট্টহাসি, নির্যাতিত মজলুম মানুষের আর্তনাদ, বিশ্ব পুঁজিবাদের অসুস্থ মানবতা, মিয়ানমারের অধিবাসী রোহিঙ্গাদের আত্মচিৎকার কখনওকি পরাশক্তি শাসকদের বিবেককে দংশন করবে? আজ বিশ্বব্যাপী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তবে সেটা হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য নয়, রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করার জন্য। বিগত কয়েক দশক ধরে মিয়ামারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণসহ জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বিশ্বের কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অভিযোগ তুলে নাই। বরাবরের মতো এবারো রোহিঙ্গা মজলুমের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহবান জানিয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আজকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাতে সাহস পেয়েছে। শুরু থেকেই যদি অপরাধের বিচার করা হতো, হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে লাশ হতে হতো না। লক্ষ লক্ষ অভিবাসী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হতো না। মানবতার গোড়ায় গলদ থাকলে অত্যাচারীরা বেপরোয়া হবে এটাই সত্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে গণহত্যাকারী শাসক দলের বিচার করবে কে? এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কি কেউ ভেবে দেখেছেন? আজকের পৃথিবীতে কত বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের জন্ম হয়েছে বা হচ্ছে, তার হিসেব কারো কাছে নেই। কিন্তু কেউকি মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে পেরেছে? নিরপরাধ মানুষ হত্যাকারী পুঁজিবাদীরাও যে বাঁচতে পারবে, সেই গ্যারান্টি কি কেউ দিতে পারবে? মানুষ মরণশীল, সবাইকে একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ নিতেই হবে, এটাই চিরন্তন সত্য। ক্ষমতার পুঁজারী শাসকদল সেটা বুঝতে না পারলেও বাংলা গানের লেখক তাঁর গানের চরণে ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন, “পরের জায়গা পরের জমি ঘর বানাইয়া আমি রই, আমিত সেই ঘরের মালিক নই” পৃথিবীর কোন শক্তিই দীর্ঘস্থায়ী নয়। হোক সেটা রাষ্ট্রীয় শক্তি, বা সেনা শক্তি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে গর্ভবতী নারী, কোমলমতি শিশু, বয়োবৃদ্ধাসহ আরকান রাজ্যের কেহই রেহাই পাচ্ছেনা। হত্যা, ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে। এসব রোহিঙ্গারা নিজের জীবন বাঁচাতে বাপ-দাদার আমলের ভিটে-মাটি ও সহায়-সম্বল ত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ, তথা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে, আবার অনেকেই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনায় যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো রোহিঙ্গা অভিবাসীদের সাময়িক অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তবে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের পতœী মানবাধিকার দূত তুরস্কের ফাস্টলেডি এমিনি এরদোগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্যাতিত নারী-শিশুদের জড়িয়ে ধরে নিজে কাঁদলেন এবং অন্যদের কাঁদিয়ে শিক্ষা দিলেন, পৃথিবীর নির্বোধ শাসকদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা অভিবাসীদের দেখতে এসে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার ঘোষনা দিয়েছেন। বাংলাদেশের মতো ছোট্ট আয়তনের দেশে এমনিতেই জনসংখ্যা বেশী। তার ওপর লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী মজলুম রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়ে মানবতাবিরোধী পুঁজিবাদীদের দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা মানবতায় বিশ্বাসী। শুধু তাই নয়, বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে, পৃথিবী কারো চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়। আমি একজন বাঙ্গালী হিসাবে গর্ববোধ করি। আমাদের এর চেয়ে বড় পাওয়া, বা আত্মত্যাগ আর কিছুই হতে পারেনা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসী রোহিঙ্গাদের যোগান দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর শ্রম, মেধা ও অর্থ-সম্পদ ক্ষতি হয়েছে, এবং হচ্ছে। তবুও কয়েক লক্ষ মজলুম মানুষের জান বাঁচাতে পেরে বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা ধন্য, ধন্য বাংলাদেশ। যারা ক্ষমতা বা সম্পদের লোভে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করছে, হয়তো তারা এখনো আজকের সভ্য যুগে প্রবেশ করতে পারে নাই। আয়ামে জাহেলি যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এরকম বর্বর শাসক দলের অত্যাচারের শিকার হয়ে নির্যাতিত মজলুম বৃহত্তর জনগোষ্ঠী নীরবে-নিবৃত্তে সহ্য করেছে। অনেকেই ন্যায় বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার মতো ঘৃণ্য পথ বেচে নিয়েছে। আবার গুটি কয়েক প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। এসব বর্ণবাদী সমাজের অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু সাহসী যোদ্ধাগণ যুগে যুগে মানবতার আওয়াজ তুলেছিল বলেই সারা বিশ্বের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আজকের সংকিপ্ত লেখায় সব সাম্যবাদী মহান ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এদের মধ্যে মহাত্মাগান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা ও কাজী নজরুল ইসলামসহ হাজারো যোদ্ধার ইতিহাস আমাদের আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস যোগায়। তখন থেকেই পথভ্রষ্ট ক্ষমতার পূজারি কিছু লোভী মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মনগড়া আইন বানিয়ে সহজ-সরল জনগোষ্ঠীকে তা মানতে বাধ্য করেছে। দূর্বল অসহায় মানুষেরাও তা মানতে বাধ্য হয়েছে। সেই আইনের ক্ষমতা বলেই শাসকেরা যুগের পর যুগ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে শাসন থেকে শোষণ করে আসছে। এক পর্যায়ে শোষণের মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের বোধোদয় হয়, বুঝতে পারে ক্ষমতাসীনদের বানানো আইন মজলুমদের সুরক্ষার চেয়ে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসনকে বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয় বেশী। এসব জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে মজলুমেরা ন্যায্য অধিকারের কথা বললেই সন্ত্রাসের তকমা লাগিয়ে তাদেরকে রাষ্ট্রযন্ত্রের ফাঁদে ফেলা হয়। মিয়ানমার দেশটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এদের সেনাবাহিনী আর জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। জঙ্গিরা গোপনে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করে। পক্ষান্তরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী দিন-দুপুরে গণহত্যা চালিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যা মতে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ছাড়া কোন দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যাওয়ার আইনগত কোন ভিত্তি নেই। তাহলে কি রোহিঙ্গাদের মতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মানবাধিকারের কোন সুযোগ নেই। এদের কি ন্যায়বিচার পাওয়ার কোন অধিকার নেই? মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, এটি তাদের পুরাণো অভ্যাস। সেখানকার জান্তা সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের কয়েক’শ বছরের ইতিহাস বিকৃত করে ১৯৮২ সালে তাদের নাগরিকত্ব বাতিলসহ সাংবিধানিক, সামাজিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। অথচ মিয়ানমার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংসান এর অন্যতম সহযোগী কয়েকজন নেতা রোহিঙ্গা ছিলেন, যাঁরা নিজেরাও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব ইতিহাস বা রোহিঙ্গা নির্যাতনের কাহিনী বার বার লিখতে গিয়ে সম্মানীত লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ক্লান্ত হয়ে গেছে। ফটো সাংবাদিকরাও নিয়মিত ছবি তুলে ইন্টারনেটে পোষ্ট করছে। আমি নিজেও কয়েকবার তাঁদের সহকর্মী হিসাবে সম্মানীত পাঠকের কাছে তুলে ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা যতই লেখালেখি বা টিভির টক’শোতে প্রতিবাদ করিনা কেন, নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ হবে, এমনটা আশা করা মুশকিল। কারণ কোন দেশের অভ্যন্তরীণ সংগঠন বা সংগঠনের সদস্য যদি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়, তাহলে সে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি নিজেই সন্ত্রাসী হয়ে কোন দুর্বল জনগোষ্ঠির ওপর জুলম-নির্যাতন চালাই, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী কোন সদস্য রাষ্ট্রের দুর্বল জনগোষ্ঠি যদি রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়, সেক্ষেত্রে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করতে পারে। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগেই রাষ্ট্র নায়করা তা উপলব্ধি করতে পেরেছিল বিধায় জাতিসংঘ বা রাষ্ট্র সঙ্ঘের জন্ম হয়েছে। সেই জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর নেতারা মানবাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল সনদ বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, আজকে বিশ্ব কূটনীতি এতই পুঁজিবাদী হয়ে গেছে যে, গরীবের ঘরে জন্ম হওয়াটাই এক ধরণের অপরাধ। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা নিজে মাইক নিজে ব্যাটারী হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। মানবাধিকার সনদ যেন তাদের কাছে ছেঁড়া কাঁথা। নির্যাতিত-মজলুমদের সুরক্ষার পরিবর্তে অত্যাচারীদের পুঁজা করাই যেন তাদের মঙ্গল। আসলে সত্যি কথা বলতে গেলে যত কমিশন বা কাউন্সিল গঠন হোক না কেন, পরিষদের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই, পরিষদ যা বলে তাই করতে বাধ্য। এখানে পরিষদ বলতে মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকেই বুঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে বিজয়ী পাঁচ মিত্রশক্তি রাষ্ট্রগুলো নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য জাতিসংঘের অন্যতম স্তম্ভ নিরাপত্তা পরিষদে তাদের স্থায়ী সদস্য পদের কৌশল অবলম্বন করে। সরল ভাষায় বলতে গেলে যাদের ভেটো প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব। নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনে রেজুলেশনের মাধ্যমে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা রাখে। এই পরিষদের জারি করা “রেজুলেশন” সদস্য রাষ্ট্রগুলো মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মায়ানমারের সশস্ত্র সেনাবাহিনী যুগের পর যুগ রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণসহ তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে, একটি স্বাধীন দেশের অধিবাসী জাতির ওপর এভাবে জুলুম-নির্যাতন চালানো নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। আর কত মানুষ মরলে, বা বস্তুচ্যুত হলে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যবস্থা নেবে আমার বোধগম্য নয়। মানবতার ভূত অংসান সুচি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বার বার মিথ্যাচার করছে। তাদের সেনাবাহিনী নাকি সন্ত্রাস দমন করছে। সুচির কাছে আমার প্রশ্ন ৫০/৬০ বছরের বয়োবৃদ্ধা, গর্ভবতী মহিলা ও কোমলমতি শিশুসহ যারা গুলিবিদ্ধ লাশ হয়ে পানিতে ভেসে যাচ্ছে, এরা সবাইকি সন্ত্রাসী? মিয়ানমারের পুলিশ চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা কারো কাম্য নয়, আমরা এর জোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এসব সন্ত্রাসীদের দমন করা অবশ্যই জরুরী। তবে নিরীহ-নিরপরাধ সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই সন্ত্রাস দমন করা অপরিহার্য। প্রয়োজনে বেসামরিক জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিধি-বিধান আইনেই স্বীকৃত। এমনকি যুদ্ধকালিন সময়েও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া মানবাধিকারের পূর্ব শর্ত। মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে আরকান রাজ্যের হাজার হাজার অধিবাসীদের গণহত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। শুধু তাই নয়, এরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, তদন্ত-মদন্ত যাই হোক, রোহিঙ্গাদের নিমূল করাই তাদের লক্ষ্যে। আরকান রাজ্যের অধিবাসী রোহিঙ্গাদের সেখানে বসবাস করার অধিকার তাদের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। এ অধিকার সহজাত ও আইনগত অধিকার। তাদের অধিকার খর্ব করার ক্ষমতা কারো নেই। তারা এ অধিকার ভোগ করবে এবং চর্চা করবে। স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম দায়িত্ব হল এসব অধিকার রক্ষণাবেক্ষণ করা। রাখাইন রাজ্যের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, রাখাইন যাই হোক, এরা মানুষ। আমি একজন মানুষ হিসেবে বিবেকের দায়বোধ থেকে বলছি, হাজার হাজার মানুষ হত্যাকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার করা অত্যাবশ্যক। অন্যথায় এরা আরও মানুষ হত্যা করবে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অভিবাসী রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা একান্তই জরুরী। তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে নিজ দেশ, তথা মিয়ানমারে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় জঙ্গিগোষ্ঠী এদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। এছাড়া যাদের বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের পাকা বাড়ী নির্মাণ করে দেওয়ায় সমীচীন হবে। রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। এটা রোহিঙ্গাদের প্রতি করুণা নই, তাদের ন্যায্য অধিকার। এসব রাষ্টীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও সমস্যা সমাধান করা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। নিরাপত্তা পরিষদ সেই দায়িত্ব যথাযতভাবে পালন করলে নির্যাতিত-নিপীড়িত অসহায় মানুষেরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।

লেখক: কলামিস্ট ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, দৈনিক কক্সবাজার বাণী।

মোবাইল: ০১৫৫৮৩৬৩৩৪৩,

Top