নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিতে ৩৮ রোহিঙ্গা নিখোঁজ

rohingya-2-3.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ: 

টেকনাফের সাবরাং নয়াপড়ার পুর্বে নাফ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিতে ৩৮ জন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর রাতে মানব সৃস্ট মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টেকনাফের উপকুলের কোথাও লাশ উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে। উক্ত এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী মোহাম্মদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিন সাবরাং নয়াপাড়া গিয়ে জানা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর রাতে মিয়ানমারের পাদংচা থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই ২টি ট্রলার টেকনাফের সাবরাং নয়াপাড়া পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছিল। নাফনদীতে বাংলাদেশ জলসীমানার ভেতরে ঢুকে উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছার পর সাবরাং দক্ষিণ নয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত সুলতান আহমদের পুত্র আবদুর রহমান প্রকাশ ভুলাইয়ার (৩৮) নেতৃত্বে একই এলাকার আবুল কাসেম প্রকাশ পুয়া কালুর পুত্র মোঃ আবদুল্লাহর মালিকানাধীন বোট নিয়ে স্থানীয় শব্বিরসহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গাবাহী দুটি নৌকায় হানা দেয়। কৌশলে ১টি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা দ্রুত তীরে আসতে সক্ষম হলেও ভুলাইয়ার কথা মতো না থামায় ক্ষীপ্ত হয়ে তাঁর বাহন নৌকাটি সরাসরি রোহিঙ্গাবাহী নৌকার উপর তুলে দেয় বলে জানিয়েছেন তীরে ফেরা রোহিঙ্গারা। এতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাটি ডুবে যায়। জঘন্যতম এ ঘটনায় মাত্র ৭ জন রোহিঙ্গা পুরুষ তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছে। তারা জানান ভুলাইয়া কতৃক ডুবিয়ে দেয়া নৌকায় ৪৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু ছিল। তম্মধ্যে মাত্র ৭ জন তীরে ফিরতে পারলেও ৩৮ জন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ সকলেই নারী ও শিশু। এ ঘটনা সকলের মুখে মুখে আলোচিত এবং জঘন্যতম ঘটনার জন্য সর্বমহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী আরও জানান মিয়ানমারে সহিংস ঘটনার পর থেকে নয়াপাড়া ঘাট দিয়ে কোন ফিশিং ট্রলার নদীতে বা সাগরে নামতে দেয়া হয়নি। কিন্ত গভীর রাতে ভুলাইয়া কিভাবে দলবল নিয়ে নয়াপাড়া ঘাট দিয়ে নদীতে নামতে পারল এবং কে তাকে অনুমতি দিয়েছে এনিয়ে এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। অভিযুক্ত আবদুর রহমান প্রকাশ ভুলাইয়া ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। সরেজমিন এলাকায় যাওয়া সংবাদকর্মীরা তাঁকে তালাশ করেও পাননি।

রাত সাড়ে ৯টায় এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মইন উদ্দিন খান বলেন এ ধরণের ঘটনা সম্পর্কে এপর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন ‘১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার টেকনাফ উপজেলায় কোন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার হয়নি’।

Top