এক প্যাকেট ভাতে ৮ জনের ক্ষুধা নিবারণ!

প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:৪২

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


দুই দিন উপুষ থাকার পর একটি খাবার প্যাকেট পেল রোহিঙ্গা রহিম উল্লাহ পরিবার। দু’মুটো ভাত ভাগ করে খাচ্ছে পরিবারের ৮ সদস্য।
cbn  

ইমাম খাইর
কুতুপালং ক্যাম্প থেকে ফিরে

রহিম উল্লাহ। বয়স কম বেশি চল্লিশ। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে স্বপরিবারে উখিয়ার কুতুপালং পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। স্ত্রী ও ৬ সন্তান নিয়ে রোহিঙ্গার পরিবার। গত দুই দিন ধরে অভুক্ত। স্ত্রী অসুস্থ। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় হাউমাউ করছে সন্তানরা। অবশেষে শনিবার বেলা ২ টার দিকে হাতে পেলো কোস্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি ভাতের প্যাকেট। আর ওই কাংখিত ভাতের প্যাকেটটি হাতে নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো রহিম উল্লাহ। ছুটে গেলো অস্থায়ী ঝুপড়ি বাসায় অপেক্ষারত অভুক্ত স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। বাবার হাতে ভাতের প্যাকেট দেখে হাত বাড়িয়ে দিলো সন্তানরা। রহিম উল্লাহ নিজ হাতে সন্তানদের পাতে তুলে দিলো দু’মুঠো করে ভাত। অল্প হলেও পরিবার সবাই খেলো। কিন্তু উপুষ রয়ে গেলো রহিম উল্লাহ নিজে। তাও বোঝতে দেয়নি স্ত্রী ও সন্তানদের। এটি ছিল শুধু রহিম উল্লাহর একটি পরিবারের চিত্র। এরকম হাজারো রোহিঙ্গা পরিবার এখন খাবারের জন্য হাহাকার করছে। গাড়ী দেখলেই ছুটছে পেছনে। সাহায্য নিয়ে যাওয়া গাড়ীর চারিদিকে ঘিরে ধরছে ক্ষুধার্থ রোহিঙ্গারা। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে গেলে প্রতিবেদকের কাছে এই চিত্র ফুটে ওঠে।

দুই দিন পরে খাবার পেয়ে রহিম উল্লাহর বড় ছেলে আবদুল মতলব (১৫) জানায়, দুই দিন ধরে কোন খাবার চোখে দেখিনি। ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে পারছিলামনা। ছোট ভাইবোনদের দিকে চাইলে চোখের পানি এসে যায়। ক্ষুধা আসলে দুই পেট চেপে ধরি। এভাবে দুই দিন কেটেছে। দুই দিন পরে আব্বু একটি প্যাকেট এনে আমাদের ভাগ করে দিয়েছে।

রহিম উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে বর্ণনা দেন তাদের উপর মিয়ানমারের বর্বর বাহিনীর নির্যাতনের কথা। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মিয়ানমারের রাসিদং দক্ষিণ শিলখালী এলাকায়। আমাদের ঘরবাড়ী জালিয়ে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। গুলি করে ও পুড়িয়ে মেরেছে স্বজনদের। প্রাণ বাঁচাতে ১৫ দিন আগে স্বদেশ ছেড়েছি। দীর্ঘ পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে দুই দিন আগে এখানে এসেছি। আসার পর থেকে কোন খাবার ও পানীয় পাইনি। কিনে খাবার টাকা পয়সাও নেই। পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে করুন দিন কাটছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •