cbn  

বিশেষ প্রতিবেদক:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নতুন আলোচনায় ওঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ। তার প্রার্থীতা হওয়া না হওয়া বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন চলছে। বিশেষ করে প্রবাসে আলোচনার ঝড় ওঠেছে শুনা যাচ্ছে। ব্যারিস্টার নাসির বিএনপির অস্ট্রেলিয়া শাখার আহবায়ক। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি স্বপরিবারে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
তিনি মহেশখালী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চরপাড়ার বাসিন্দা মরহুম হাজি আমির হোসাইনের ছেলে। পেশাগতভাবে মাইগ্রেশন কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে যুক্ত।
ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ ইতোমধ্যে দলের মহাসচিবসহ হাইকমান্ডের সাথে প্রার্থীতা বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছেন। নেতাদের সবুজ সংকেতও পেয়েছেন। শুরু করেছেন লবিং-তদবির। এমনটি আভাস একটি সুত্রের। তবে, দলের কোন নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্র তা নিশ্চিত করেনি।
একটি সুত্র জানায়, গেল রমজানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বিএনপির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিনই প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসন থেকে এমপি প্রার্থী করার দাবী তুলেন। দলের মহাসচিবও তাদের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে নেন। অনেকটা সবুজ সংকেতও দেন। আগামী সপ্তাহে লন্ডনে গিয়ে বিএনপির প্রাণপুরুষ তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পরিকল্পনা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আলোচনা করবেন প্রার্থীতার বিষয় নিয়ে।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আহবায়কের দায়িত্বের পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ প্রচার ও দলকে বহির্বিশ্বে সুসংগঠিত করতে নিরলস কাজ করে চলেছেন। সেখানকার বাঙালী কমিউনিটিতে তার একটা ভাল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সবার কাছে অমায়িক ও সদালাপি ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ।

শিক্ষাগত জীবনে ব্যারিস্টার নাসির মহেশখালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কক্সবাজার সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কৃতিত্বের সাথে এল.এল. বি (পাস) পাশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্বাবদ্যালয় থেকে। এরপর ‘বার এট ল’ ডিগ্রি নিতে ছুটে যান অস্টেলিয়া। সেখানকার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নিউ সাউথওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জন করেন ‘বার এট ল’ ডিগ্রি। ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ছিলেন ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ। স্বপরিবারে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করলেও তিনি কক্সবাজার জেলা বারের সদস্য।
মহেশখালীর অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিডারশীপ কলেজের প্রতিষ্ঠাদের অন্যতম হচ্ছেন ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ। তিনি মহেশখালী চরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্টপোষকতা দিচ্ছেন। প্রবাসে থাকলেও এলাকার খোঁজখবর নেন সার্বক্ষণিক। বিশেষকরে শিক্ষা বিস্তারে তার অবদানের কথা অজীবন স্মরণ করার মতো।
সাংসারিকভাবে ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ স্ত্রী, ২ ছেলে দুই মেয়ের জনক। বড় মেয়ে ইফতিশাম উল্লাহ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ অধ্যয়নরত।
ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহর প্রার্থীতা বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, আমাদের নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদের ইঙ্গিত ছাড়া প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যাকে মনোনীত করবেন তিনিই প্রার্থী হবেন। প্রয়োজনে সালাহ উদ্দিন আহমদ এই আসনে এমপি প্রার্থী হবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কে কোন আসনে প্রার্থী হচ্ছে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। দলের হাই কমান্ডই প্রার্থীতা দেয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •