বিশেষ সংবাদদাতা:

চকরিয়া  উপজেলার পৌরশহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক স্থানে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। কোন ভাবেই তাদের দমানো যাচ্ছে না। এলাকা ভিত্তিক এসব ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে মাদকের শক্তিশা্লী সিন্ডিকেট। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক অভিযানের পরও অবাধে চলেছে তাদের মাদকের বাণিজ্য। বর্তমানে শহরে বিভিন্ন স্পটে ইয়াবাসহ মাদকের আগ্রাসন বেড়েই চলছে। ফলে মাদকাসক্ত হয়ে এলাকায় যুব সমাজ প্রতিনিয়ত বিপদগামী হচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন রয়েছেন জনসমাজের  অভিভাক মহল। এক বাক্যে বল্লেই চলে ইয়াবার জোয়ারে ভাসছে চকরিয়া পৌরসদর। চকরিয়া উপজেলার ২০টি ও একটি পৌরসভা সদর থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের প্রতিটি এলাকায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়ারা ব্যবসা। রাতারাতি কোটিপতি  হওয়ার স্বপ্নে বিভোর উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী ও যুবকরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে জড়িয়ে পড়ছে অবৈধ ইয়াবা ব্যবসায়।
অবৈধ ইয়াবার গডফাদার সিন্ডিকেট  মূল হোতাদের অবস্থান  চক্ষু আড়ালে।এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি,ও নারীদের বড় একটি অংশও এখন ইয়াবা ব্যবসায়  ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার।কারণ প্রশাসনের কিছুসংখ্যক দালালের দৌরাত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পুরোদমে সফল হয়না।দালালচক্রের সখ্যতা রয়েছে ইয়াবা গডফাদারের।  ইতিপূর্বে চকরিয়া উপজেলায় বেশকটি  অভিযানে  র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়ছে ইয়াবার বড় বড় চালান। পাশাপাশি থানা পুলিশও বসে নেই। তাদের হাতেও নিয়মিত ধরা পড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ইয়াবার চালান।তারপরেও প্রতিযোগিতামূলকভাবে পাড়া-মহল্লায় পাল্লা দিয়ে চলছে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য।
চকরিয়া উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মী , চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ অনেক জনপ্রতিনিধি সরাসরি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রয়েছে। উপজেলার আইন শৃংখলা  রক্ষাকারী পুলিশ প্রশাসন দেখেও না দেখার মত অবস্থানে  রয়েছে। চকরিয়া পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখানো ইয়াবা উদ্ধারের অভিযান চালিয়ে গেলেও অধরাই থেকে যায় প্রকৃত গডফাদাররা। পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা চকরিয়া পৌরসদরসহ পাড়া-মহল্লায় কারা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন করে তা জানার পর রহস্যজনক কারণে নিরবতার কাতারে অবস্থান।  তবে পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু মাদকদ্রব্য ও ইয়াবা উদ্ধার করে অপরাধীদের আটক করা হলেও আইনের ফাক-ফোঁকর দিয়ে আটককৃতরা ৩/৪মাসের ব্যবধানে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় আরো বপরোয়া হয়ে দাপটের সহিত মাদক ব্যাবসায় রমরমা পরিসরে বিস্তৃতি  ঘটে। তারমধ্যে মাষ্টার পাড়ার সাজু,হোসনে আরা,নুরুচ্চপা বেগম ইতিমধ্য বেশ কয়েকবার জেল ফেরত আসামী।তাদের বিরুদ্ধে ৭/৮ টি মাদক মামলা রয়েছে। তারা বিভিন্ন উঠতি বয়সের যুবকদের প্রলোভন ও  প্রশাসনের অনেক লোককে প্রমের ফাঁদ বসিয়ে আড়ালে থেকে  বেপরোয়া গতিতে অবৈধ মাদক ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। জনসমাজ তা নিয়ে গুন্জনে শেষ নেই।
বিশেষ পরিলক্ষে  বর্ণিত চকরিয়া পৌরসদরসহ ও আশপাশের এলাকা সমুহে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ইয়াবা বিকিকিনির নিয়মিত হাট বসে। সদরের ফুটপাত, ফলের দোকান, বিড়ি সিগারেটের দোকান, ফুটপাতের রাস্তা ও মার্কেটের অলিতে গলিতে ১৫ থেকে ৩৫ বছর রয়সের অর্ধশতাধিক যুবক প্রকাশ্যে এসব মরণ ঘাতক ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছে।চকরিয়া পৌরসদরের চিরিঙ্গা বাস ষ্টেশন,মাষ্টার পাড়া, হালকাকারা বটতলী, মৌলভীরচর, জনতা মার্কেট, বটতলা, ঘনশ্যামরাজার, চৌমহনী, হিন্দুপাড়া, সবুজবাগ আবাসিক, নিরিবিলি আবাসিক, বিজয় মঞ্চ সংলগ্ন এলাকা, ফুলতলা, বাসটার্মিনাল, ভাঙ্গারমুখ, মৌলভীরকুম, ভেন্ডীবাজার, মগবাজার, কোর্ট সেন্টার, থানা সেন্টার, থানা রাস্তার মাথা, তেলীপাড়া, কসাইপাড়া, ফুলতলা, বিজয় মঞ্চ, হিন্দুপাড়া, ওয়াপদা সড়ক, কাঁচাবাজার সড়ক, চিরিঙ্গা পুরাতন বাসষ্টেশন, পুরাতন এস আলম কাউন্টারসহ পৌরসদরের ছোট বড় অর্ধশতাধিক মার্কেট ও সড়কের অলিতে গলিতে চলছে খুচরা ইয়াবা ব্যবসা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,মাদক ব্যাবসায়ী সে যেই যত বড় নেতা হোক না কেন কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।মাদকে বিরুদ্ধে সবসময় অভিযান অব্যাহত আছে থাকবে এতে কোন সন্ধিহান নেই।উল্লেখ্য তিনি চকরিয়া থানা যোগদানের পর উপজেলার আইন শৃংঙ্খলা মিটিংয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেঞ্চ ঘোষনা করেছেন।
গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসব গডফাদারদের আইনের  আওতায় আনার জন্য চকরিয়ার সতেচন মহল দাবী জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •