পূর্বপশ্চিমবিডি:

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থী নির্বাচনে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে দলের মধ্যে ৫৩ জন হাইব্রিড এমপি-নেতার তালিকা তার হাতে এসেছে। এখান খেকে ২০ জন এমপিকে কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে এই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত, পরীক্ষিত ও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গণভবনের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন, জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষক এবং বিগত আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নিজেদের আড়ালে রেখে দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছন এমন ২১ জন এমপি এবং আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পদধারী নেতাও রয়েছেন এই তালিকায়। যাদেরকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না।

হাইব্রিড নেতাদের মধ্যে ঝালকাঠির ১ জন, পিরোজপুরের ২ জন, নরসিংদীর ১ জন, চট্টগ্রামের ৪ জন, ফরিদপুরের ১ জন, গাইবান্ধার ২ জন, মুন্সিগঞ্জের ১ জন, দিনাজপুরের ১ জন, বরিশালের ১ জন, নড়াইলের ১ জন, টাঙ্গাইলের ২ জন, দিনাজপুরের ১ জন, ঢাকায় ১ জন, রাজবাড়ীতে ১ জন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না।

এসব হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশ এমপিদের মধ্যে নরসিংদীতে একজন প্রতিমন্ত্রী যার বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। গাইবান্ধার দুইজন অনুপ্রবেশকারী এমপি যাদের মধ্যে একজন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান যিনি নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সব কাজের জন্যই কমিশন বাণিজ্য শুরু করেছেন। অন্য একজন এমপি যিনি জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। ঝালকাঠির যিনি রয়েছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সর্বশেষ বনানী ধর্ষণের ঘটনায় তার পরিবারের লোকজনও জড়িত ছিল। প্রভাব খাটিয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান তারা। নড়াইলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন এবং পুলিশ প্রশাসনকে অপব্যবহার করে ক্ষমতার দ্বম্ভ দেখান।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে হাইব্রিড ও দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা চেয়েছিলেন সম্প্রতি। এরই ধারাবাহিকতায় এ তালিকা দেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের একটি সূত্র পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছে। তাদেরকে বাদ দিয়ে এইসব আসনে ক্লিন ইমেজের নারী ও তরুণ নেতৃত্ব বের করার কথা বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •