শাহেদ মিজান, সিবিএন:
প্রতারণা ও রোগি আটকে রেখে প্রতারণার অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে কক্সবাজার শহরের আল ফুয়াদ হাসপাতালের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। রোগি অভিভাবকের দায়ের করা অভিযোগোরে ভিত্তিতে অভিযান ও তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান।

আটকরা হলেন, হাসপাতালের মনিটরিং অফিসার সেলিম উল্লাহ সুজন, জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) খালেদ হোসেন ও সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক (এজিএম) দিদারুল আলম।অভিযোগে উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়াপালং এলাকার মুহাম্মদ হোসেন উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুর্ তার অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৫) কে সন্তান প্রস্রবে সহযোগিতা নিতে কক্সবাজার শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ফুয়াদ আল-খতিবে আনা হয়। কর্তৃপক্ষ ভর্তি দিয়ে চিকিৎসক দিয়ে চেক করার পর সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। কিন্তু রাত ১০টার দিকে প্রস্রব বেদনা উঠার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেলিভারী করতে অস্ত্রোপচার দরকার। অনুমতি দেয়ার পর প্রসুতিকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ঢুকানোর পাঁচ মিনিটের মাথায় স্বাভাবিক ডেলিভারিতে বাচ্চা প্রস্রব হয়। বাইরে অপেক্ষা করা স্বজনরা বাচ্চার কান্না শুনতে পায়। কিন্তু এরপরও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চিকিৎসক শিরিন আকতার জাহান ও তার এক সহযোগি এক নারী চিকিৎসক রোগির পেটে ও বিভিন্ন জায়গায় কাটা ছেড়া করে সেলাই দেন। সেখান থেকে বের করে কেবিনে নেয়া হয়।প্রসূতির চাচা সাকের উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ফির সাথে অপারেশন বাবদ ২৩ হাজার টাকা দাবি করেন। স্বাভাবিক ডেলিভারিকে অপারেশন হিসেবে উল্লেখ করে টাকা দাবি করা নিয়ে বাকবিতন্ডা হলে রোগির স্বজনদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন দায়িত্বরতরা। সাফ জানিয়ে দেয়, দাবি করা টাকা না পেলে রোগি বের করতে দেয়া হবে না।

এ ব্যাপারে জানতে হাসপাতালের যোগাযোগ ফোন নাম্বারে কল করা হয়। এক নারী ফোন রিসিভ করে নিজের পরিচয় দিতে অপারগতা জানিয়ে বলেন, যারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন তাদেরতো পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছেন। আমি এসবের কিছুই জানি না। তবে, শুনেছি রোগির স্বজনরা যতটুকু অভিযোগ করছেন ততটুকু নয়।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘একজন রোগি নারীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালায়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ঐ রোগীকে উদ্ধার ও হাসপাতালের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আরো কিছু পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার বিএমএ সভাপতি ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. পুচনু বলেন, ‘এমনটি হয়ে থাকলে এটা চরম অনৈতিকতা। চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুবর্তিতায় এটি অগ্রহণ যোগ্য। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •