ডেস্ক নিউজ:
টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে যশোরে বাবা আব্দুস সাত্তারকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া ছেলে তরিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবীর তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। পরে তরিকুলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোরের নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই সোহরাব হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামি তরিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে পুলিশকে তার বাবাকে হত্যার তথ্য দেন। একই তথ্য দিয়েছেন আদালতে।

আদালত ও পুলিশ সূত্র মতে, যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার শুক্রবার (২১ জুলাই) ভোর রাতে নিজ ঘরে খুন হন। একই ঘরে অন্য খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন স্ত্রী ও ছোট কন্যা। এ হত্যাকাণ্ডের পর থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা নিয়ে রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ।

এরই অংশ হিসেবে গত ২৩ জুলাই নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। স্বামী হত্যার ব্যাপারে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ছেলে তরিকুল ইসলামকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন বলে তথ্য দেন। এর ভিত্তিতে পুলিশ তরিকুলকে গ্রেফতার করে।

এসআই সোহরাব হোসেন জানান, নিহতের মেজ মেয়ে আসমা খাতুন ওমানে চাকরি করেন। সেখান থেকে পাঠানো টাকা গ্রহণের জন্য আসমা খাতুনের বড় ভাই তরিকুল ইসলামের নামে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়। এ হিসাবে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠায় আসমা। এ টাকা খরচ করে ফেলেন তরিকুল ইসলাম।

আসমার টাকা ফেরতের জন্য তরিকুলকে চাপ দিতে থাকেন বাবা আব্দুস সাত্তার। কিন্তু তরিকুল ওই টাকা ফেরৎ না দেয়ার জন্য বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। এছাড়া বাবাকে দিয়েও তরিকুল বিভিন্ন এনজিও থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ তুলে আত্মসাৎ করে। এক পর্যায়ে তরিকুলের নামে থাকা ৩ শতক জমি সাত্তার অন্য দুই ছেলে শিমুল ও সজলের নামে দলিল করে দিতে বলেন। এনিয়ে তরিকুলের সঙ্গে তার পিতা সাত্তারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

এরই অংশ হিসেবে তরিকুল তার বাবা আব্দুস সাত্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। শুক্রবার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে এক সহযোগীসহ তরিকুল বাবার ঘরে যায়। সহযোগী পাহারা দেয় আর তরিকুল নিজে তার বাবার গলায় ডান পাশে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় বাবার গুঙ্গানির শব্দ শুনে পাশের খাটে থাকা তার মা রাবেয়া বেগমের ঘুম ভেঙে যায়।

তিনি (রাবেয়া) তরিকুল ও তার সহযোগীকে ঘর থেকে দ্রুত বের হতে দেখেন। গত ২৩ জুলাই এ ব্যাপারে রাবেয়া আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিও দেন।

এদিনই পুলিশ তরিকুল এবং তার সহযোগী ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে। ২৪ জুলাই রাতে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তরিকুল বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান দেয়।

এরপর মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সেখানে তরিকুল ইসলাম তার পিতা আব্দুস সাত্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •