আবদুল মজিদ, চকরিয়া;
কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি এবং সাগরে আমাবশ্যার জোয়ারের পানি অধিকতর বৃদ্ধি হয়ে চকরিয়া উপজেলার ৪৫হাজার একর চিংড়ি জমির অধিকাংশই ভেসে গিয়ে পানিতে একাকার হয়েগেছে। ২৫জুলাই বিকেলে এমন অবিমতই ব্যাক্ত করেন চিংড়ি ঘের মালিক ও চাষীরা।

চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজা, চরণদ্বীপ মৌজা, বহলতলী মৌজা, কাকড়াদিয়া মৌজাসহ বিভিন্ন মৌজায় সরকারী তালিকাভূক্ত ও তালিকা ছাড়া সর্বমোট ৪৫হাজার একর চিংড়ি-মৎস্য জমি রয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের খাস জমি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি, মৎস্য বিভাগের জমি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সন ভিত্তিক লীজ দেওয়া জমি রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তালিকা সূত্রে জানাগেছে, চকরিয়ায় ওই বিভাগের ১৬১২৮.২৯ একর চিংড়ি জমি রয়েছে। তন্মধ্যে ৭৫৯জনের নামে সরকারী ইজারা রয়েছে ৮৮৭৭.৮৮ একর এবং ইজারা বিহীন রয়েছে আরো ৭২৫০.৪১একর জমি। এছাড়াও সরকারে অন্যান্য দপ্তরের অবশিষ্ট চিংড়ি চাষী জমি রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা চিংড়ি খামার মালিক সমিতি লি: এর সভাপতি আলহাজ¦ সেলিম উল্লাহ এমএ, সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ পটু, সম্পাদক দলিলুর রহমান ও সদস্য আলহাজ¦ আবদুল হামিদসহ মালিক সমিতির অপরাপর সদস্য ও চাষীরা জানিয়েছেন, সাগরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার, ওজানের পানি ও ভারি বর্ষন অব্যাহত থাকায় নিয়ন্ত্রনের অতিরিক্ত পানি তাদের মৎস্য ঘের সমূহে ঢুকে পড়েছে। যার কারণে উপজেলার সকল মৎস্য ঘের ডুবে গিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার উর্ধ্বে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা মৎস্য চাষ করে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্র অর্জন এবং তাদের সংসারে ব্যয়ভার নির্বাহে সাগর কেন্দ্রীক টেকসই স্থায়ী বেড়িবাধ ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবী করেন। তারা আরো বলেন, একদিকে বন্যার ক্ষতি, অন্যদিকে শুস্ক মৌসুমে ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের মহড়া ও দখলবাজীতে ঘের মালিক ও চাষীরা অতিষ্ট। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান বলেন, গত বন্যার চেয়ে এবারের বন্যায় মৎস্য ঘের সমূহে পানি একটু বেশি হয়েছে। সাগরের আমাবশ্যা জোয়ারের পানি বেড়িবাধ উপছে পড়ে মৎস্য ঘের সমূহে ঢুকে মৎস্য চাষীদের ভয়াবহ এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সরকারী হিসাব অনুযায়ী চকরিয়ায় প্রায় ৪৫ হাজার একর চিংড়ি ও মৎস্য জমি রয়েছে। তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বন্যা ও জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পর নিরুপন করবেন বলে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •