ডেস্ক নিউজ: 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই দলকে নিয়ে সরকার নতুন কৌশলে এগোচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এই কৌশলের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে দুটো। এক. বিএনপি যাতে সামনে কোনো আন্দোলনে যেতে না পারে সে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া; দুই. চাপে ফেলে বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা। এই কৌশলের অংশ হিসেবে দলটির প্রতি অনাস্থা ফুটে ওঠে শীর্ষ কয়েক নেতার এমন কিছু কাল্পনিক বক্তব্যের বরাত হঠাৎ করেই সামনে নিয়ে এসে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। যাতে করে ওই প্রোপাগান্ডা অস্ত্র দলের অভ্যন্তরে কিংবা নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, নেতিবাচক এই প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে আর ফিরবেন না, কিংবা পালিয়ে গেছেন’- সরকারি দলের কোনো কোনো নেতা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
বিগত বছরগুলোতে বিএনপি নিয়ে কাটাছেঁড়া কিংবা দলটিতে ভাঙন ধরানোর নানা চেষ্টা হয়েছে। এক-এগারোর সময়ে এ ধরনের প্রয়াস ছিল উল্লেখ করার মতো। যদিও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি আছে আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ, অটুট। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই রাজনৈতিক চাল বেড়ে যায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেও বিএনপির একটি অংশকে নির্বাচনে আনা যায় কি না সে চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন সামনে একাদশ সংসদ নির্বাচন। বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক। সেভাবেই দলটি প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে আন্দোলনকেও তারা সমান গুরুত্বসহকারে নিয়েছে।

এ রকম একটি অবস্থায় গত ১৫ জুলাই লন্ডন গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার এ সফর একান্তই ব্যক্তিগত। সফরে বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যদের সাথেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পা ও চোখের চিকিৎসা নেবেন তিনি। খালেদা জিয়ার এ সফর কিছু সময় দীর্ঘ হবে এমনটাই বলেছেন দলটির নেতারা। সে হিসেবে কোরবানির ঈদ পরিবারের সাথে কাটিয়ে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে দেশে ফিরতে পারেন তিনি। লন্ডনে যাওয়ার আগে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সাথে বৈঠকে খালেদা জিয়া ঐক্যবদ্ধভাবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে নেতাদের নির্দেশ দেন।
খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার পর সরকারি দলের নেতারা নানামুখী বক্তব্য দিচ্ছেন। সরকারের কমপক্ষে তিনজন নেতা প্রায় একই সুরে বলেছেন, ‘মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া পালিয়ে গেছেন। তিনি আর ফিরবেন না।’ এ ধরনের বক্তব্যের মধ্যেই শুরু হয়েছে বিএনপি-বিরোধী প্রোপাগান্ডা। কয়েক দিন ধরে বিএনপির কমপক্ষে চারজন শীর্ষ নেতার দলবিরোধী বানোয়াট বক্তব্য কয়েকটি অনলাইনে ভাসছে। ‘বিএনপি করা মানে পুতুল হয়ে থাকা’, ‘বিএনপি করার চেয়ে বাড়ির চাকর হওয়াও সম্মানের’, ‘বিএনপিতে চলছে রাজতন্ত্র, আমি ক্রীতদাস’, ‘দারোয়ানইতো এখন বিএনপি চালায়’-এ ধরনের আজগুবি শিরোনামে নিউজ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে এ ধরনের সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট নেতারাও এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা ও দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে উদ্ধৃত করে বিএনপি চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপারসন কার্যালয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিউজ সাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইনে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচারমূলক।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির লোকেরা দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন মনগড়া অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এসব বক্তব্যের সাথে বিএনপির কোনো নেতার সম্পর্ক নেই। বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী এ ধরনের অপপ্রচারকে বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা কয়েক দিন আগে বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কত খেলা ঘটবে। এগুলো কি তাদেরই খেলা কি না এটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিএনপিকে নানাভাবে বিপর্যস্ত বা দুর্বল করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকারের অপচেষ্টা এখনো থেমে নেই।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অটুট বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ। যত অপচেষ্টাই হোক না কেন সেই ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যে ছেদ ধরানো যাবে না।
দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এ ধরনের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এর জবাব দিচ্ছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক তারিকুল আলম তেনজিং লিখেছেন, ‘বিএনপির বর্ষীয়ান নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মিথ্যাচার লজ্জাজনক। সরকারের বিভিন্ন এজেন্ট ও তাদের মদদপুষ্ট দালাল শ্রেণীর এসব অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করা এবং অনৈক্য সৃষ্টি করা। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ আছে, থাকবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •