‘বিএনপিতে চলছে রাজতন্ত্র, রাণী আর যুবরাজ দল চালায়’

পূর্বপশ্চিম :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি থেকে আজকাল খুব একটা বের হন না। বাড়িতে কর্মীদেরও আনাগোনা নেই। বলা যায় অবসর জীবন যাপনই করছেন। দলের নেতারাও আজকাল তাঁর খোঁজ খবর নেন না। অথচ ক’দিন আগেও জেল খাটলেন। নেতারা তার খবরও নেননি তখন। আত্মীয় স্বজনরাও এটা ভালোভাবে নেয়নি। তারা অভিযোগ করছেন ‘বিএপির জন্য তো কত কিছুই করলেন, বেগম জিয়া তো আপনার খবরও নেয় না।’ উত্তরে ম্লান হেসে বলেছেন ‘বিএনপিতে তো রাজতন্ত্র। রাণী আর যুবরাজ দল চালায়। আর বাকী সবাই প্রজা, কেউ কেউ ক্রীতদাস। আপনি কি- এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আরো দার্শনিক ভাবে, বলেছেন ‘রাণী এবং যুবরাজকে যারা খাজনা দিতে পারে তারা প্রজা, আর যারা পারে না, তারা তো ক্রীতদাসই। আমিও ক্রীতদাস’।

এম কে আনোয়ার ডাকসাইটে আমলা ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন দু’দফায়। জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতায় সেভাবে চলাফেরা করতে না পারায় কোথাও যাচ্ছেন না এম কে আনোয়ার। এমনকি তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে পারছেন না।

জানা গেছে, ডাক্তারি পরীক্ষায় তার শরীরে সেভাবে মারাত্মক সমস্যা ধরা না পড়লেও শরীর ভীষণ দুর্বল। বেশির ভাগ সময় এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় শুয়ে-বসে তার সময় কাটছে। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা নেন।

৩৪ বছরের পেশাজীবনে যেমন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সজ্জন ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত পান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সরব দেখা গেছে মাঠে-রাজপথে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এখন অনেকটা ‘ঘরবন্দি’।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকে গত প্রায় দুই বছর ধরে রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে না। নাশকতার মামলায় আটক হয়ে ছয় মাস কারাগারে থেকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। কিছুদিন পর চিকিৎসার জন্য চলে যান ভারতে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসার পরও তাকে আর তেমন দেখা যায়নি।

দলীয় কর্মসূচি তো দূরের কথা, সবশেষ গত ২১ মে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও তিনি যেতে পারেননি শারীরিক দুর্বলতার কারণে। এর মধ্যে কেবল দুই দিন তাকে দেখা গেছে বেরোতে। গত ১০ মে খালেদা জিয়ার ভিশন-৩০ ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এরপর নাশকতার এক মামলায় গত ১৫ মে ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজিরা দিতে যান এম কে আনোয়ার।

এম কে আনোয়ারের রাজনীতিতে আসাটা ছিল এক বিস্ময়। ৯০ এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হলো। তিন জোটের পক্ষ থেকে এরশাদের দোসরদের তালিকা প্রকাশিত হলো। তালিকায় নাম ছিল দুজন সচিবের। একজন প্রয়াত কেরামত আলী অন্যজন এম কে আনোয়ার। এরা দুজনই এরশাদের আস্থাভাজন সচিব ছিলেন। তিন জোটের ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘এরশাদের দোসরদের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলে নেবে না, মনোনয়নও দেবে না।’

ডিসেম্বরের এক সকালে প্রধানমন্ত্রীর ৩২ নম্বরে ওই দুই এরশাদের দোসর আমলাকে নিয়ে এলেন তোফায়েল আহমেদ। আওয়ামী লীগ সভাপতি তখন প্রচণ্ড ব্যস্ত। মনোনয়ন, নির্বাচনী ইশতেহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ শেখ হাসিনাকে বললেন, কেরামত আলী এবং এম কে আনোয়ার এসেছেন, তারা নমিনেশন চায়। আসন্ন নির্বাচনে বিজয় নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো সংশয় নেই। নির্বাচন যেন কেবল এক আনুষ্ঠানিকতা। শেখ হাসিনা একটু রেগেই গেলেন। তিনি ওই দুই আমলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকৃতি জানালেন। বললেন এরশাদের কোনো দোসরকে দলে নিয়ে আমি মানুষের কাছে ভোট চাইবো কীভাবে?

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে ব্যর্থ হয়ে দুজনই চলে গেলেন, বেগম জিয়ার কাছে। দেখাতো পেলেনই, সঙ্গে দুজনই পেলেন বিএনপির টিকিট। নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ভাবে জয়ী হলো বিএনপি। জামায়াতের সমর্থনে সরকারও গঠন করল। বেগম জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেলেন, এরশাদের ঘনিষ্ঠ দুই আমলা।

কুমিল্লার হোমনায় এম কে আনোয়ার আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিলেন। সচিব থাকার ফায়দা নিয়ে এলাকায় রাস্তাঘাট বিদ্যুৎ করেছিলেন। আমলা থেকে মন্ত্রী হলেন কোনো বিরতি ছাড়াই। মন্ত্রণালয়ের কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় মন্ত্রী হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দেন। অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভায় তিনি হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ। ৯৬ তে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এম কে আনোয়ার ঠিকই এমপি হন। এসময় দলেও তিনি নেতৃত্বে আসেন। মাঠের কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় না হলেও, দক্ষ আমলা হবার সুবাধে প্রশাসনিক কাজে বেশ দক্ষতারই পরিচয় দিয়েছিলেন।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকুরে হিসেবে পেশাজীবন শুরু হয় এম কে আনোয়ারের। ১৯৯০ সাল পর‌্যন্ত তার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি ফরিদপুর ও ঢাকার ডেপুটি কমিশনার, জুটমিল কর্পোরেশনের সভাপতি, টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ বিমানের সভাপতি এবং প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিএসপি কর্মকর্ত এম কে আনোয়ার ১৯৭১ সালে ঢাকা জেলার প্রশাসক ছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে এম কে আনোয়ার বিএনপিতে যোগ দেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৮ সাল পর‌্যন্ত টানা পাঁচবার তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন।

তিনি বিএনপি সরকারের বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফে অভিযানেও থামছে না ৩ ভাইয়ের ইয়াবা বানিজ্য

পেকুয়ায় চাঁদার দাবীতে দোকান সংস্কারে বাধা ও ভাংচুর

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র মুজিবুর রহমান

চকরিয়ায় সুরাজপুর আলোকশিখা পাঠাগার’র চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণ ও গুণীশিক্ষক সংবর্ধনা

কক্সবাজার ক্রীড়া লেখক সমিতির কমিটি গঠিত

সাংবাদিক বশিরের মাতার জানাযা সম্পন্ন বিভিন্নমহলের শোক

বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন

টেকনাফ সাংবাদিক ফোরাম’র আহবায়ক কমিটি গঠিত

কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন অধ্যাপক আজিজ

“দুখরে রোগে ও ভয় পায়!”

নিরাপদ জীবনে ফিরতে চায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

রোববার থেকে বিএনপির সাক্ষাৎকার শুরু

মিয়ানমারে শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রেফতার

বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৮) আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন

কক্সবাজার-২ আসনে কারাবন্দী আবুবকরের পক্ষে মনোনয়ন ফরম জমা

ঈদগাঁওতে ইউনিক পরিবহন ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪

চবির ‘প্রফেসর’ পদোন্নতি পেলেন কক্সবাজারের হাসমত আলী

খুটাখালীর মহাসড়ক কিনারায় অবৈধ ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ

চবিতে গণিত বিভাগের ২দিন ব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শুরু

১৯দিন ব্যাপী চুনতির সীরত মাহফিল ১৯ নভেম্বর