বাংলাট্রিবিউন:
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নীতি-নির্ধারকরা চান, খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফর যেন পারিবারিক সফরের ভেতরই সীমাবদ্ধ থাকে। তাদের মতে, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থাকেন, এ কারণে তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তবে বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা মনে করলেও এ সফরকে বিএনপির নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এ কারণে খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে চান তারা।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, ‘খালেদা জিয়ার এই সফর পারিবারিক হলেও তিনি যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন দু’টি টার্গেট নিয়ে। এই দু’টি হলো—আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও বিদেশে ‘লবিস্ট’ নিয়োগ করা। তাদের ধারণা, এই সফরে মিডিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও চড়া মুল্যে ‘লবিস্ট’ নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারেন খালেদা জিয়া। এছাড়া এই সফরে হতে পারে একাদশ সংসদ নির্বাচন ভুণ্ডুল করার শলা-পরামর্শও। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপাতত পশ্চিমা দেশটিকে নিরাপদ মনে করে সেখানে যাচ্ছেন তিনি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির এই নেতার সফর নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ-পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দেশের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে হতাশ হয়ে ষড়যন্ত্রের ছক কষতে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি সবসময়ই বিদেশি শক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের আগে সফর করে সুবিধা ভোগের চক্রান্ত করছে দলটি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সিঙ্গাপুরে মানি লন্ডারিংয়ের টাকা ফেরত এসেছে, তাই সেখানে যাওয়া বন্ধ, সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে। তাই যুক্তরাজ্যকে ষড়যন্ত্রের নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, ‘এটা শুধু মা-ছেলের সাক্ষাৎই নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সফর। সফর শেষে খালেদা জিয়া ফিরে আসার পরই তার নির্বাচনি দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হবে। তারেক রহমান তার ছেলে হলেও খালেদা জিয়া দুই বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামিকে দেখতে যাওয়া আইনত অশোভনীয়।’ তিনি বলেন, ‘এটি শুধু ছেলের সঙ্গেই দেখা নয়, পাকিস্তানের সঙ্গেও দেখা। তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই কনেকশন রয়েছে।’

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মা হিসেবে খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে যাচ্ছেন। এছাড়া তারেক রহমান দলের অন্যতম একজন নীতি-নির্ধারকও। টেলিফোনে অনেক কথা বলা যায় না। সরাসরি দেখা হলে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা সহজ। তাই এ সফরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এ সময় আগামী নির্বাচন ও আন্দোলন বিষয়ে কৌশলগত দিক ঠিক করা হবে। এর বাইরে কিছু করা হলে, তা হবে অনাকাঙ্ক্ষিত। এরপরও খালেদা জিয়ার এই সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। দেখতে হবে সেখানে তিনি কী করেন।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার এই সফর ষড়যন্ত্রের অংশ। আগামী নির্বাচন ভুণ্ডুল করতে মা খালেদা ও ছেলে তারেক মিলে শলা-পরামর্শ করতেই যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।’ তিনি বলেন, ‘এই সফর দেশের মানুষের প্রতি নিরাশ হয়ে বিদেশি শক্তির ওপর ভর করার সফর।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের প্রচার, প্রচারণা সম্পাদক ও মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য সফর কেন, তার খবর আমাদের কাছে আছে। তিনি ছেলেসহ আরও কার কার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, সে খবর আমাদের কাছে রয়েছে। এবার ফিরে এসে কোনও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে খালেদা জিয়ার দু’টি জায়গা ছিল। একটি সিঙ্গাপুর, অন্যটি সৌদি আরব। দু’টি কানেকশনই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। তাই নতুন ষড়যন্ত্রের জায়গা বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্য।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও সরকারের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করতে বিএনপির চেয়ারপারসন যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন। তবে ষড়যন্ত্র টিকবে না। তাকে বিদেশ মিশন বাদ দিয়ে দেশের জনগণের মন জয় করার রাজনীতি করতে হবে।’

দলটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিএনপির চেয়ারপারসনের যুক্তরাজ্য সফরকে পর্যবেক্ষণ করব। ওখানে তার ছেলে থাকেন। আমরা মনে করি এটি তার পারিবারিক সফর। এর বাইরে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু করবেন না বলে আশা করি।’ শেষ পর্যন্ত তাই যেন হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •