এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে নারী নির্যাতন মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মামলাটি তুলে নিতে বাদিকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার বাদি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর নতুনঘোনা গ্রামের দিদারুল ইসলামের স্ত্রী রেহেমা শাহীন রিমা ও তাঁর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাদি।

অভিযোগে বাদি রেহেমা শাহীন রিমা জানান, চলতিবছরের ১৩এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ির কিছু বাজার করে বদরখালী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ওইসময় একই এলাকার মফিজ উদ্দিন, জাহাংগীর ও মহিউদ্দিন একটি মোটর সাইকেল যোগে এসে তাঁর গতিরোধ করে অপহরণের চেষ্ঠা করে। এক পর্যায়ে তাঁরা বাদিকে একটি সিএনজি গাড়িতে তুলে কিছুদুর নিয়ে যায়। এসময় টানা হেচঁড়া করলে তার শরীরের বোরকা ও কাপড়-চোপড় খুলে বিবস্ত্র হয়ে যায়।

রিমা জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা তাকে গলা চেপে ধরে মারধর করে অভিযুক্তরা। ঘটনার পরপর তাঁর শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাদিকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতাল ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় রেহেমা শাহীন রিমা বাদি হয়ে গত ৪ মে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ইউনিয়নের উত্তর নতুন ঘোনা গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে মফিজ উদ্দিন, ছনুয়াপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে জাহাংগীর, শহরিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মহিউদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশে চকরিয়া থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত ১১জুন অভিযুক্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি নথিভুক্ত করে।

বাদি রেহেমা শাহীন রিমা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে হুমকির অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা জিডি করেন। ওই জিডির আলোকে তাঁরা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত এক নম্বর আসামি মফিজ উদ্দিনের বড়ভাই আব্বাস আহমদসহ মামলার আসামিরা তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য। এ অবস্থার কারনে বর্তমানে রেহেমা শাহীন রিমা ও তাঁর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাদি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •