এস. এম. তারেক:
এবারের ঈদে আনন্দ ছিলনা কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় জনপদ পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী গ্রামের মানুষদের। ঘূুর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ভেঙ্গে পড়েছিল বেড়ি বাধের বিরাট একটি অংশ। এরপর ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ভাঙ্গন এলাকা আরো বিস্তৃত হয়ে পড়ে । বারংবার আবেদন সত্বেও অদ্যবধি ভাঙ্গন এলাকা মেরামত করেনি কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। যে কারনে সাগরের লোনা জলে ভাসছে আর ডুবছে পুরো জনপদ। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় এখানে চলাচলের জন্য নেই কোন রাস্তাঘাট। এলাকার প্রায়সব বসতঘর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্টান নিমজ্জিত রয়েছে পানির নিচে। অবশ্য কিছুদিন পূর্বে মাটি ফেলে ভাঙ্গন এলাকা মেরামত কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। কিন্ত ঈদ এবং বর্ষার কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যেকারণে এবারের ঈদ নিরানন্দে কেটেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ওই এলাকার ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মোঃ রশিদ জানান, গত জীবনে এমন কষ্টের ঈদ কখনও কাটেনি তার। চারদিকে পানি আর পানি। নেই কোন রাস্তাঘাট। এমনকি জোয়ারের সময় মসজিদের উঠানেও পানি উঠে যায় বলে জানান তিনি। শিশু তানভীর জানায়, ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা কাপড় পড়ে বের হওয়ার কোন জায়গা নেই। ঘরের উঠানে পানি উঠে যাওয়াতে কোথাও বের হওয়ার জো নেই। তাই এবারকার ঈদ কষ্টের বলে জানায় সে। গৃহবধু রহিমা জানান, আগে প্রতি ঈদে এঘর থেকে ওঘরে যাওয়া আসা হত আতœীয়-স্বজনদের মধ্যে। বাড়ত পারস্পরিক সম্প্রীতি । কিন্ত এবারকার ঈদে পানির কারণে তা হয়ে না উঠায় মন ভালো নেই তার। রাস্তাঘাট না থাকায় বলতে গেলে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা কেউ। তরুণী মোমেনা জানায়, পানির কারণে গ্রামের অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের প্রতি এলাকাবাসীর দাবী সহসায় বেড়ি বাধটি মেরামত করে এমন নরক যন্ত্রনা থেকে তাদের যেন মুক্তি দেয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •