cbn  

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:

“প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধনে” স্লোগানে কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা প্রশাসন, নেকম-ক্রেল প্রকল্প এবং সনাক-টিআইবি যৌথভাবে সোমবার (৫ জুন) নানা আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালী। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্যালেন চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ দিদারুল আলম এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালী উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক গিয়ে ফের উপজেলা পরিষদে এসে শেষ হয়। র‌্যালীতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় তিন শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালী শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। ক্রেল প্রকল্পের উপজেলা সাইট কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম এর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ দিদারুল আলম, ফাঁসিয়াখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মতিন, সনাক চকরিয়ার সাবেক সভাপতি ও ফাঁসিয়াখালী সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সনাক চকরিয়ার বর্তমান সভাপতি এ কে এম সাহাবুদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলাল প্রমুখ।

সভায় দিবসের উপর টিআইবি’র ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এরিয়া ম্যানেজার মোঃ জসিম উদ্দিন এবং নেকম-ক্রেল প্রকল্পের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রান্ট অফিসার মোঃ হেলাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্যারিস চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে আমরা আমাদের সম্পদ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবেলা করবো। আমরা যদি নিজস্ব সম্পদ দিয়ে পদ্মাসেতু করতে পারি তাহেলে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প গ্রহণ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে কমপক্ষে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো কর্তৃক অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অবাধে কার্বন নিঃসরণের ফলে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই হয়নি, বিশ্বব্যাপী নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করায় বন ও বন্যপ্রাণিও হুমকির মুখে পড়েছে। ক্রমেই বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে সেচ নির্ভর ধানসহ বিভিন্ন কৃষির রোপন প্রক্রিয়া এবং এর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন এবং জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে তা মোকাবেলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলার ৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ দিদারুল আলম। এতে কোরক বিদ্যাপীঠের রেবেকা সুলতানা মাধুরী প্রথম এবং কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের আফসানা জান্নাত ওশিন দ্বিতীয় ও খালিদ বিন সাঈদ তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ২৩জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •