জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
ঘুর্ণিঝড় “মোরা”র তান্ডবে কক্সবাজারের টেকনাফে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঘুর্ণিঝড়ে বিদ্যুতের স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরুপণ করা না গেলেও উপজেলার সব লাইন চালু করতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে কক্সবাজার-টেকনাফ তেত্রিশ হাজার কেভি তথা মেইন লাইন ছিঁড়ে খন্ড বিখন্ড হয়ে গেছে। মেইন লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল এবং সরকারী দপ্তর বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ নির্ভর প্রতিষ্ঠান এবং সবখানে রীতিমত দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সংবাদ পেশায় জড়িতদের সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পত্রিকা অফিসে সংবাদ পাঠাতে তাদের অনেকটা হিমশিত খেতে হচ্ছে।
সুত্র জানায়, ঘুর্ণিঝড় মোরার আঘাতে টেকনাফে ষাটটির অধিক বিদ্যুতের খুঁটি একেবারে ভেঙ্গে গেছে। খুঁটি ভেঙ্গে বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে আছে। উনষাটটি ক্রস আর্মস নষ্ট,সত্তরের অধিক স্পটে এস.টি থার,পঞ্চাশের অধিক স্পটে এল.টি থার ছিঁড়ে গেছে। দেড় হাজারটি মিটার নষ্ট হয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে পড়ে আছে। দুই হাজার ফুটের বেশী সার্ভিস থার ছিঁড়ে গেছে। এদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগে টেকনাফে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আজ এবং কালকের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শনে আসছেন পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের প্রতিনিধি। সীমান্ত এই উপজেলায় দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম,রাউজান,পটিয়া এবং কক্সবাজার হেড অফিস থেকে অতিরিক্ত ৩৫জন স্টাফকে টেকনাফে পাঠানো হয়েছে। যারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ঘুর্ণিঝড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে কাজ করবেন। চলতি রমজান মাসে রোজাদার এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক লাইন টেকনেশিয়ান জানান,কক্সবাজার-টেকনাফ তেত্রিশ হাজার কেভি চালু করার জন্য এখন আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজ এবং কালকের মধ্যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারব। বিদ্যুতের এই লাইন টেকনেশিয়ান আরো জানান,উপজেলার সব লাইন চালু করতে অন্তত তিন-চার সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো: শহীদুল্লাহ জানান,স্মরণ কালের ভয়াবহ এই দুর্যোগে পল্লীবিদ্যুতের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তেত্রিশ হাজার কেভির লাইন ছিঁড়ে গেছে। মেইন লাইন চালু করতে আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মেইন লাইন চালু করে পর্যায়ক্রমে সব লাইন দ্রুত সময়ে চালু করার কথা জানান পল্লীবিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •