এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া
মধু মাসের শুরুতে চকরিয়া উপজেলার হাট বাজার গুলোতে চলছে ফলমালিনযুক্ত মৌসুমী ফলের রমরমা বাণিজ্য। টাকা দিয়ে ক্রেতা সাধারণ বিষযুক্ত এসব ‘তাজা’ রসালো ফল ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে খাওয়ার কারনে সব বয়সের মানুষের জনস্বাস্থ্য বর্তমানে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার প্রতিটি স্পটে প্রকাশ্য দিবালোকে ফলমালিনযুক্ত মৌসুমী ফল বিক্রির মহোৎসব চললেও এব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা স্বাস্থ্য পরির্দশকের কোন ধরণের তদারক নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ২৫টি হাট বাজার এবং বিভিন্ন পরিবহন স্পট ও স্টেশন এলাকায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মৌসুমী ফল। জেষ্ঠ্য মাসের শুরুতে উপজেলার এসব হাট-বাজার গুলোতে মৌসুমী ফলের জমজমাট বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার বেশির ভাগ বাজারে আম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পেপেঁ, মাল্টা, আপেল, আঙ্গুর সহ মৌসুমী ফলের অবাধ বিকিকিনি চলছে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, বর্তমানে বাজার গুলোতে মধু মাসের যেসব মৌসুমী ফল বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগ ফলই ফলমালিনযুক্ত। বিগত সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্রিযোগ্য ফল ফলমালিনযুক্ত কিনা তা সনাক্ত করতে বাজার গুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারী থাকলেও বর্তমানে সেই ধরণের কোন ব্যবস্থা নেই। একই সাথে বন্ধ রয়েছে বাজার মনিটরিংয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানও। এ সুযোগে কতিপয় আড়তদার ও ব্যবসায়ী চক্র অধিক মুনাফা আয়ের জন্য কৌশলে বাজার গুলোতে দেদারছে বিক্রি করছে ফলমালিনযুক্ত এসব মৌসুমী ফল। এ অবস্থায় অনেকটা নিরুপায় হয়ে ভোক্তা সাধারণ টাকা দিয়ে এখন কিনে খাচ্ছে বিষযুক্ত এসব ফল।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, বাজারে বিক্রি করা ফলমালিনযুক্ত এসব মৌসুমী ফল মানবদেহের জন্য অধিক ক্ষতিকর। পরীক্ষা ছাড়া এসব ফল খেলে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ক্রেতা সাধারণকে ফল ক্রয় করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.দিদারুল আলম বলেন, বাজারে ফলমালিনযুক্ত মৌসুমী ফল বিক্রি হচ্ছে এ ঘটনা সঠিক। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রয়েছে। তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার আলোকে ভ্রাম্যমান আদালত চালু হলে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •