আব্দুল আলীম নোবেল
আজ টেকনাফ মডেল থানার নতুন ভবন  উদ্বোধন  করতে আসছেন পুলিশের সর্বোচ্চ কর্ণধার বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক। তিনি এখানে এসে কি বলবেন এমনটি চেয়ে আছেন এতদাঞ্চলের সাধারণ ও সুশীল সমাজ। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে ইয়াবা এলাকা খ্যাত উপজেলা টেকনাফ। মরণনেশা ইয়াবার বদনামের বোঝা মাথা নিতে নিতে এই এলাকার ভাল মানুষরাও কলংকিত মানুষের খাতায় নাম লিখে চলছে প্রতিদিন। এর সাথে সমান তালে হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রশাসনের কাছ থেকে।

প্রশাসন যে হয়রানি করছে এমনটি মোটেও জোরালোভাবে বলা যাবে না। কারণ গতবছর জেলা প্রশাসনের এক সভায় মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দাবী করেছেন টেকনাফের ৯০ পার্সেন্ট মানুষ ইয়াবার সাথে জড়িত। এমনটি হলে তো প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করবেই। এখানে হয়রানির অজুহাত তুলে লাভ নেই। ইয়াবা প্রতিরোধে এলাকার ভাল মানুষরা একযোগে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে ইয়াবা নিমিষে চল যাবে। গত ৬মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের এক জনসভায় বলে গেলেন ইয়াবার সাথে যত বড় শক্তিধর হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার ১৮দিন পার হলেও ইয়াবা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন বড় কোন সফলতা দেখাতে পারেনি বলে দাবী করছেন এলাকার সচেতন মহল। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় কয়েক দিনের জন্য গা ঢাকা দিয়েছিল রাগব বোয়ালেরা। এই এলাকার মানুষও মনে করছিলেন এবার কারো রেহাই হবে না। কই , তেমন তো কিছু হলো না। আগের মতো সমান তালে চলছে ইয়াবা ব্যবসার সাম্রাজ্য। প্রশাসনের হাতে বেশ কিছু চালান ধরা পড়লেও ধরা পড়েনি বড় কোন ইয়াবা গডফাদার। স্বরষ্ট্রমন্ত্রায়সহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী একাধিক ইয়াবা ব্যবায়ীদের তালিকা করতে দেখেছি। এদেরকে ধরতে প্রশাসনের অভিযানও থেমে নেই। ছোট বড় সফলতাও আসেনি এমনটি একবারে অস্বীকার করা যাবে না। তবে যেমনটি ফলাফল জাতি আশা করেছেন তেমনটি দেখাতে পারেনি তারা। এদিকে ইয়াবার সাম্রারাজ্যে পুলিশের করর্ণধার এসে কি ঘোষনা দিবেন। ইয়াবা নির্মূলে কতটা সফলতা দেখাতে পারবেন তাঁর বাহিনী। এমন প্রত্যাশায় চেয়ে আছেন জাতি।

ইয়াবা চাই না,ইয়াবা মুক্ত কক্সবাজার চাই, ইয়াবা মুক্ত বাংলাদেশ চাই। মরণব্যাধি ইয়াবা থেকে আগামী প্রজন্মে বাচঁতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •