সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখনো আরও প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা বেশ আগে শুরু করলেও এতোদিন নিরব ছিল দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। অবশেষে আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দলের ৫১টি টিম সারাদেশ সফরে নেমেছে। নেতাকর্মীদেরকে চাঙ্গা করতে তারা ঘরোয়া সভা, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন। বিএনপির অধিকাংশ কেন্দ্রিয় নেতাই দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এতদিন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তাদের ওপর প্রচ- ক্ষুব্ধ ছিল। কেন্দ্রিয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই দলের কোনো কর্মসূচি সফল হয়নি বলেও অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীর। জানা গেছে, সিনিয়র নেতাদের ওপর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেও ক্ষুব্ধ। নতুন পরিকল্পনার আলোকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কেন্দ্রিয় নেতাদেরকে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশের পরই বিএনপির সিনিয়র নেতারা একদিকে তৃণমূলকে সংগঠিত করার কাজ করছেন আর অপরদিকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের ব্যর্থতাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। দলে কেন্দ্রিয় নেতাদের সক্রিয় ভুমিকাসহ কিছু নতুন পজেটিভ ম্যাসেজে চাঙ্গা হয়ে উঠছে তৃণমূলসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, তারা এখন দুইটি টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। প্রথমত: তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করার মাধ্যমে দলকে আগামী নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা। যাতে যেকোনো সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেই মাঠ নিজেদের দখলে নিতে পারে। তৃণমূলকে এমন নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই মাঠ দখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দ্বিতীয়ত: এখনই সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের যে দাবি তারা জানিয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবির পক্ষে জনমত গঠনের কাজও করবে তারা। এছাড়া নির্বাচনের একটি বিস্তারিত রূপরেখাও ঘোষণা দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আর সরকার যদি এবারও তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন করতে চায় তাহলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, এবার আর একতরফা খেলতে দেয়া হবে না।

এদিকে, দিন যত যাচ্ছে ততই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে অস্থিরতা। জানা গেছে, ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে দলটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এখন খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাণিজ্য ও অধিপত্যবিস্তার নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দলের ভেতর কোন্দল ততই বাড়ছে। কোনো কোনো এলাকার মন্ত্রীদেরও নিজ এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছে না স্থানীয় এমপিরা। জানা গেছে, ‘ক্ষমতা হারালে টাকাপয়সা নিয়ে পালাতে হবে’ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন তথ্য ফাঁসের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাদের দেখা দিচ্ছে ভয়-আতঙ্ক। দলের চেয়ে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়েই তারা এখন বেশি চিন্তিত। আর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় তারা মনে করছেন গতবারের মতো ভারত আগামী নির্বাচনে আর তাদেরকে একচেটিয়া সমর্থন দিচ্ছে না। তাই আগামীতে পুনরায় ক্ষমতায় আসা নিয়ে তাদের মধ্যেও যথেষ্ট সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব ছাড়বেন বলেও জানিয়েছেন এরশাদ। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে পরিপূর্ণ বিরোধীদল হতেই তারা সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের পরিকল্পনাতেই এসব হচ্ছে। বিএনপি যদি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে না আসে তাহলে এরশাদের জাতীয় পার্টিকেই আবার বিরোধীদল করার পরিকল্পনা সরকারের থাকতে পারে।  নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চাঙ্গাভাব, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করা অস্থিরতা ও মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে রাজনীতিতে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি

সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে যে বিএনপি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এটার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সম্প্রতি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংগঠনিক সফর দলকে সবসময়ই শক্তিশালী করে। আগামী যেকোনো নির্বাচনে ভোটারদের যদি আগাম আশ্বস্ত না করা যায়, ভোটাররা যদি বুঝতে না পারে যে দেশে অবাধে, নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবে, তাহলে কিন্তু ভোটকেন্দ্রমুখী জনগণ হওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দীর্ঘদিন সরকারের আনুগত্য হইয়া, হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিব, শুনিয়া যাইব, কিছু বলিব না, কিছু করিব না- এটা তো রাজনৈতিক দায়িত্ব না। আমরা এই শব্দটাকে প্রিপারেশনও বলতে পারি, অথবা অবগত হওয়ার পর আমাদের কী ধরনের প্রিপারেশন নেওয়া উচিত, আগামীতে কী করা উচিত সেটা তো আমরা নির্ধারণ করতে পারব। বিএনপি সবসময়ই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তৃণমূলে উঠান বৈঠকে নামছে বিএনপি

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকা-ে প্রতিকূলতার আবর্তে থাকা বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। যদিও দলের নেতারা বলছেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। কোন কোন নেতা বলছেন, পরবর্তী নির্বাচন না-ও হতে পারে। এমন বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যেও দল গোছানো, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে অগ্রসর হচ্ছেন তারা। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। এখন তৃণমূলে উঠান বৈঠক আয়োজন, ভোট কেন্দ্র রক্ষার প্রশিক্ষণসহ ১৩ দফা নিদের্শনা দলের কেন্দ্র থেকে পাঠানো হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও সরকারের ‘বেআইনি’ কর্মকা- সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পাঠানো হচ্ছে লিফলেট ও পোস্টার।  ৫১টি টিম প্রতিটি জেলায় কর্মীসভা করবেন, কেন্দ্রের দিক নির্দেশনা দেবেন। এসব কর্মীসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান, দলের ঐক্য ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে। এই সফর শেষ করে প্রতিবেদন আকারে তা দলের চেয়ারপারসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সক্রিয় হচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতারা

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। এতদিন বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে এলেও বর্তমানে মূল দল বিএনপির শীর্ষপদে গুরুত্ব বেড়েছে তাদের। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আগামীতেও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও মূল দলের কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক ছাত্রদল নেতা আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও শেখ রবিউল আলম রবি। ছাত্রদলের বর্তমান ও পদবঞ্চিত অন্যান্য নেতারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

বিএনপি ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রেখে নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির জন্য সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে যদি তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচন করতে চায় করুক না। এত সোজা না তো, বিএনপি দ্য লারজেস্ট পলিটিক্যাল পার্টি ইন দিস কান্ট্রি (বিএনপি দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল)। এই পলিটিক্যাল পার্টিকে বাদ দিয়ে একটা নির্বাচন তারা করেছে, যে নির্বাচনের তারা কোনো লেজিটিমিসি (বৈধ্যতা) পায়নি।

এদিকে এক বছরের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দেশের হাজারও সমস্যা সমধানে আওয়ামী লীগ সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ভোট দিয়ে আবারও বিএনপিকে ক্ষমতায় পাঠাবে। সম্প্রতি সিলেটে ইলিয়াস আলীসহ ‘গুম’ হওয়া সকল নেতাকর্মীর সন্ধান দাবিতে সিলেট বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অপর এক সভায় দুদু বলেন, আওয়ামী লীগ পেছাচ্ছে আর বিএনপি ক্ষমতার দিকে পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিএনপি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে এটাই বাস্তবতা। কারণ বিএনপি দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।

আসছে নির্বাচনী রূপরেখা ‘ভিশন ২০৩০’

সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত নন, এমন একজন সাবেক অধ্যাপকের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ শীর্ষক রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে।

গত বছরের মার্চে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনের দিন দলের চেয়ারপারসন ‘ভিশন ২০৩০’ শিরোনামে যে সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দিয়েছিলেন, তা বিস্তারিত আকারে তৈরি করা হয়েছে। ১১মে খালেদা জিয়া তা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে। এটার ভিত্তিতে সময়মতো নির্বাচনের ইশতেহার দেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি ধারণা এই রূপরেখায় দেওয়া হবে। নতুন ধারার সরকার ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার একটি চিন্তা এই রূপরেখার খসড়ায় তুলে ধরা হয়েছে।

সমঝোতা না হলে আন্দোলন

বিএনপির সামনে এখন মূল লক্ষ্য সরকারের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যুতে সংলাপ ও সমঝোতার। এই জন্য তারা সরকারের সঙ্গে বসতে চায়। আর সরকার তাতে বসতে রাজি না হলে বিএনপি আন্দোলনে যাবে। আন্দোলনে গেলে সেই আন্দোলন থেকে তারা পেছনে ফিরবে না। ২০১৪ সালের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি তারা হতে দেবে না। তারা মনে করছে, জনগণকে পাশে নিতে পারলে এবং ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে সেই সঙ্গে বিদেশীরা সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে পারলে বিএনপির দাবি আদায়ের পথ সুগম হবে।  বিএনপি মনে করছে, সরকার নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে না পারলে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেও পিছপা হবে না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইলে এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না করলে এই দাবি পূরণ করার জন্য পুরোদমে আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলনে সাফল্য আনতে হবে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন করাতে হবে। এই জন্য তৃণমূলের নেতাদের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সকল বাধা অতিক্রম করেই আন্দোলন সফল করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই হিসাবে কাজও করছেন।

আন্দোলনে ঢাকা মহানগর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সব চিন্তাভাবনা করেই বিএনপি নতুন করে পরিকল্পনা করছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করছে। জানা গেছে, ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের অনেক প্রত্যাশা। তারা মনে করছেন, নতুন যে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা ঢাকা মহানগরের এর আগে দুটি আহ্বায়ক কমিটি কাঙ্খিত ও আশানুরূপ সাফল্য না দেখানোর ইতিহাস মুছে দিবে এবং সাফল্য এনে দিবে। আর সেই সাফল্য আনার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব রকমের সহায়তাও দেওয়া হবে। আগের কমিটির মতো যাতে করে মহানগরের কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল প্রকাশ না পায় এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব তাদেরকে পেছনে নিয়ে যেতে না পারে, ইতোমধ্যে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বার্তা ও নির্দেশনা মহানগরের নতুন কমিটির নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রবের পথেই হাঁটছেন এরশাদ?

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে যদি বিএনপি-জামায়াত জোট আগামী নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে আগেরমতো এরশাদের জাতীয় পার্টিকেই আওয়ামী লীগের বিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হবে। এ লক্ষ্যে এরশাদকে দিয়ে একটি রাজনৈতিক জোটও গঠন করিয়েছে সরকার। ৭ মে নামসর্বস্ব ও নিবন্ধনহীন ৬৯টি দলকে নিয়ে জোটের ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য হল, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

দেশের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৭ সালে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ’৮৮ সালে যখন স্বৈরশাসক এরশাদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন বিএনপি-আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় কোনো বিরোধীদল ছিল না। জাসদের আ স ম রবের নেতৃত্বে ৭০টি দলের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন হয়েছিল। এরশাদের পরিকল্পনাতেই এ জোট গঠন করেছিলেন আ স ম রব। ৮৮ সালের নির্বাচনে বিরোধীদল গঠনে আ স ম রবকে যে পথ এরশাদ দেখিয়েছিলেন, আজ তিনি নিজেই সেই পথে হাঁটছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরামর্শে এখন এরশাদ অস্তিত্বহীন কিছু দল নিয়ে মহাজোট গঠন করছেন। অধিকাংশ দলের সভাপতি-সেক্রেটারি ছাড়া অন্য কোনো সদস্য নেই বলেও জানা গেছে। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো, সাধারণ মানুষতো দূরের কথা রাজনৈতিক দলের নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাই এসব দলের নাম আগে কখনো শুনেনি। আ স ম রবের মতো এরশাদের ৭০ দলীয় জোটও জনগণের কোনো সাড়া পাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

– শীর্ষ প্রতিবেদক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •