শাহেদ মিজান, সিবিএন:
বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়ে অবশেষে আজ ২৩ মে অনুষ্ঠিত হবে আলোচিত মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ভোটে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন মনোনায়ন পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে তিনজন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী সেলিম চৌধুরী (নৌকা), বিএনপির মনোনিত প্রার্থী এখলাসুর রহমান (ধানের শীষ) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক বিন ওসমান শরীফ (মোটরসাইকেল)। নির্বাচনের ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্ত্বা জোরদার করেছে প্রশাসন। কয়েকদিন আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্ত্বার কথা জানানো হলেও ভোট গ্রহণ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। তিন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মারমুখী অবস্থানে থাকায় এই আতঙ্ক ভোটারদের আতঙ্কের কারণ। তবে অনেক কাঠগড় পেরিয়ে অবশেষে ভোট গ্রহণ হতে যাওয়ায় ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজও রয়েছে।
ভোটারদের অভিমত, এ নির্বাচন আদৌও শান্তিপূর্ণ হবে কিনা তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই নিয়ে সবর্ত্র বিরাজ করছে অজানা শঙ্কা। যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষ লেগে যেতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে। ভোটকেন্দ্রে প্রভাবশালী প্রার্থীদের সমর্থকদের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। এই নিয়েই মূলত আতঙ্ক অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী মজুদ করার পাল্টপাল্টি অভিযোগ করে আসছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও।
ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনের ভোট গ্রহণে ভোটাররা অবশ্যই শঙ্কিত। বিএনপির প্রার্থী নয়; আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। কেননা এখানে দুই প্রার্থী নানা কারণে চির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবর্তিত হয়েছে। মূলত এই দু’প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন নিয়ে যতই বিপত্তি! দীর্ঘ আইনী লড়াই করেও দলের মনোনয়ন পাননি মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ মো. শরীফের দৌহিত্র তারেক বিন ওসমান শরীফ। তার মনোনয়ন কেড়ে নিয়ে সেলিম চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে- এমন দাবি তার। এমনকি তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অনেক ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করেন তারেক শরীফ। তবে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেও পাননি দলীয় দলীয় মনোনয়ন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এখলাসও ভোট গ্রহণে প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন।
তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, ‘ত্যাগী আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়েও আমি দলীয় মনোনয়ন পায়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমাকে বঞ্চিত করেছে। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমিও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নৌকা প্রতীক দিতে পারেননি।’
সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নৌকা প্রতীকটা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে বার বার আমাকে নৌকা প্রতীক থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু ভোটারদের ভালোবাসায় আমি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছি। আমি শতভাগ আশাবাদি ভোটার ম্যান্ডেট নিয়ে আমি নির্বাচিত হবো।’
বিএনপির প্রার্থী এখলাসুর রহমান বলেন, ‘কালারমারছড়া হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। ভোটাররা ধানের শীষের ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহ করে আছেন। সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার করা না হলে আমি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতবো ইনশাল্লাহ।’
স্থানীয় নির্বাচন সচেতন লোকজন জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিন প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন রয়েছে। কাউকে ফেলে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তবে নানা কারণে তারেক বিন ওসমান শরীফের প্রতি ‘জনসিম্পিতিটা’ বেশি হচ্ছে। তবে বিজয় দেখার জন্য অন্তত আজ ২৩ মে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ২৩ মে সারাদেশের ৬০ ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে একমাত্র কালামারছড়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের তিন প্লাটুন র‌্যাব, দুই প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন কোস্টগার্ড ও পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। ওই তিন বাহিনীর প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন করে সদস্য থাকেন। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা সদস্যদের বাইরে টহলে থাকবেন তারা। নিয়মিত দায়িত্বে প্রতিকেন্দ্রের জন্য ছয় প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘ভোটারদের মতে যে কোন মুর্হুতে বড় ধরনের সহিসংতার আশংকা রয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা ও আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর থাকবে। প্রয়োজনে গুলি করা হবে।’
প্রসঙ্গত ২১০ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মনোয়নয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি আইনী বাধায় নির্বাচন কমিশন কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করেছিল। অনেক আইনী মারপ্যাঁচ শেষে আজ বহুল প্রত্যশিত এই ইউপির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কর হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে অন্যান্য প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনছারুল করিম ও হাত পাখা নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোঠের মাওলানা সেলিম। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ৩৩৭৮৬ ভোট। কেন্দ্র সংখ্যা নয়টি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •