ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করলেন প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খাইর, সিবিএন
কক্সবাজারের একটা বদনাম আছে, এখান থেকে নাকি ইয়াবা পাচার হয়। ইয়াবা পাচার বন্ধ করুন। যারা ইয়াবা পাচারে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা দেশের জন্য অভিশাপ।

শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কথাগুলো বলছিলেন।

তিনি বলেন, মাদক মানুষকে ধংস করে। সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। মাদকদ্রব্য থেকে সন্তানদের দূরে রাখার বিষয়ে মা-বাবাকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে রুঁখে দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। স্বাধীন জাতি ভিক্ষা করতে পারেনা। আমরা ভিক্ষুকমুক্ত জাতি গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধু সে লক্ষ্যেই কাজ করেছিলেন। জাতির জনকের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। মানুষের ভগ্যোন্নয়নে আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের হসসয়ে কোন মানুষ নিঃস্ব থাকবে না। গৃহহারা হবেনা কেউ। আমরা প্রতিটি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। নিঃস্ব মানুষদের মাথাগুজার ঠাঁই করতে ‘গুচ্ছগ্রাম’ তৈরী করছি। আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি।

নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। মানুষের ভাগ্য খোলে যায়। আওয়ামী লীগের মেগা উন্নয়ন কর্মে দেশ এগিয়ে যায়। শুন্য অবস্থায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিলেও আজকে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ন। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সমভাপতিত্বে সভায় ঘড়ির কাঁটা বিকাল ঠিক ৩টা বেজে ৪৭ মিনিটে বক্তৃতা দিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অনেক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। সাথে বিএনপি-জামাত জোট সরকারসহ বিগত সময়ের সরকারের তুমুল সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি লুটের সরকার। খুনের সরকার। তাদের সময়ে খুন-গুম ছাড়া কোন উন্নয়ন হয়নি। মানুষের জন্য তারা কোন কাজই করেনি। তারা আজ প্রত্যাখাত।

একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি দেশের উন্নয়ন করেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি দুর্দিনেও নাই উন্নয়নেও নাই। কিন্তু আমি আপনাদের সামনে খালি হাতে আসিনি। অনেক প্রকল্প নিয়ে এসেছি। উপহার এনেছি।যে কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো উদ্বোধন করেছি। যেগুলো করব, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এখানে পর্যটক আসে, সেহেতু তাদের যাতায়াতের জন্য বিমান নিয়ে এসেছি। এই বিমান আজ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করলো। আমি এই বিমানের মাধ্যমে এখানে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার ঘোষণা দিলাম।’ বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই এয়ারপোর্টটি (বিমানবন্দর) জরাজীর্ণ ছিল, ৯৬ সালে সরকারে এসে এটিকে উন্নত করে যাই। এই বিমানবন্দরকে উন্নত করার জন্য আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছি।’

বিমানবন্দরটি যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, সে জন্য রানওয়ে প্রশস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কক্সবাজারবাসী অবহেলিত ছিল আমি জানি। যখনই কোনও দুর্যোগ দেখা দিয়েছে আমরা এসেছি, আপনাদের সেবা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিএনপি নেত্রী জানতেন না। আমি সংসদে তোলার পর উনি বলে দিলেন, যত মরার কথা, তত মানুষ মরে নাই। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে? এরপর আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ছুটে এসেছিলোম। আসার পথে কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। রাস্তা ভাঙা ছিলে। এরইমধ্যে এসে সমস্ত দ্বীপাঞ্চল ঘুরে ঘুরে রিলিফ ওয়ার্ক করেছি। তখন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের কেউ আসেনি। যখন কুতুবদিয়াতে নামি লাশের পর লাশ পড়ে ছিল। নেভির লোক কোনোভাবে লাশ দাফন করেছিল। সেইদিনই সেনাবাহিনীর একটি দল এসেছিল। প্রত্যেক এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের লাশ, শিশুর লাশ আমি নিজে দেখেছি। সাপ গরুর লাশ, ছোট্ট শিশুর লাশ ভেসে ভেসে আসছে। সেই বিভৎস দৃশ্য। যতটা পেরেছি মানুষকে সহায়তা করেছি। রিলিফ দিতে এসে হুমকির সম্মুখীন হয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করে আর কিছু এলিটকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি শাসক না জনগণের সেবক হিসেবে বাংলাদেশ পরিচালন করব। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আমি জানি এটা আমার জন্য কঠিন পথ। কারণ এই মাটিতে আমার বাবা-মা-ভাইসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একইদিনে মেজ ফুফুর বাড়ি সেজ ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করে তার স্বামী ছেলেকে হত্যা করেছে, আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও আক্রমণ করে ফুফাকে না পেয়ে ফুফুকে গৃহবন্দি করেছে। এভাবে হত্যাযজ্ঞ চলেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় সভায় প্রধানমন্ত্রীর আগে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ  আর নেই

কক্সবাজারের ৫ উপজেলায় ভোটযুদ্ধ আজ

এমপি জাফর আলমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলেন সাঈদী

ইসরায়েল লুটেরা রাষ্ট্র : মাহাথির মোহাম্মদ

 বাবার মত আমিও আপনাদের সেবা করে মরতে চাই- নৌকার প্রার্থী জুয়েল

ইস্তাম্বুলে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে জরুরী বৈঠক

টেকনাফের নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করলেই অ্যাকশন যাবো : এসপি মাসুদ হোসেন

২৭ মার্চ উমিদিয়া জামেয়া ইসলামিয়ার বার্ষিক মাহফিল

ঝুঁকিতে ‘গোমাতলী বেইলী’ ব্রীজ

সেই রাফিয়ার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী রাসেল

রামু পশ্চিম মনিরঝিল দরগাহ পাড়ায় তাফসীরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

 “আল মাহমুদ চেতনার কবি, প্রেরণার বাতিঘর” শীর্ষক আলোচনা সভা

জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচনে নুরুল আমিন-তুহিন প্যানেলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা 

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-৬

এতিম শিশুদের জন্য বনভোজনের আয়োজন করলেন ছাত্রলীগ নেতা আসফি

আল্লামা তকী উসমানীর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

সাঈদী ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী’র কাছে

অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে হাত দিলেই গুলি- মহেশখালীর ওসি

ইউএনও বীনার ঘর আলোকিত করল নতুন অতিথি

কক্সবাজার সদর ও কুতুবদিয়া উপজেলায় রোববারের সাধারণ ছুটি কি এখনো বহাল!