লামায় বন্যহাতির তান্ডবে ১৩ বসতঘর ও ফসল তছনছ

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা:

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বুনোহাতির দল তান্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে ১৩টি বসতঘর, বিপুল পরিমাণ জমির ধান ও ফলদ বাগান। শুধু তাই নয়, এ সময় হাতির দল কৃষকের ঘরে রক্ষিত ধান ও চাউল খেয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধান করে। গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি হাবিবুর রহমান পাড়া, সোলেমান পাড়া, ধুইল্লাপাড়া, বাজার পাড়া, জটকি বনিয়া পাড়া ও হিমছড়ি পাড়ায় ১২-১৩টি বুন্যোহাতি এ তান্ডব চালিয়ে এসব তছনছ করে দেয়। হাতির দলটি বর্তমানে ওই এলাকায় অবস্থান করায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। হাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ খোলা আকাশের নীচে জীবন যাপন করছে। আবার কেউ কেউ ঘরবাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, গহীন পাহাড় থেকে বুনোহাতির দল রবিবার রাতে লোকালয়ে নেমে পড়ে। পরে রাতভর হাতিগুলো হারিছ চৌধুরী, লোকমান হোসেন, মো. মিয়া, মো. শফিক, মো. শাহ আলম, মো. ইউছুপ, ভেট্টু মিয়া, গুরা মিয়া, শেখ আহমদ, সিরাজ, হামিদ, আতিয়ার মোডল, লেদু মিয়ার বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ভাংচুর করে। এ সময় হাতিগুলো কৃষকের ঘরে থাকা প্রায় ১০০ মন ধান ও চাউল খেয়ে ফেলে। এছাড়া প্রায় ৫ একর জমির ধান, ফলজ বাগানের কলা গাছ ও কাঁঠাল খেয়ে নষ্ট করে গত তিন দিনে।

হাতি আক্রমনের শিকার হামিদ ও হারিছ চৌধুরী জানান, বুনোহাতিগুলি প্রথমে বাড়ীর চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা জানালার পাশে পাহারাদারের মত দাঁড়িয়ে থাকে। আর ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান চাল খেয়ে চলে যায়। রাতজেগে বাড়ি ঘর পাহারা দিয়ে হাতির আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্ঠা চালাচ্ছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল ও কালা মিয়া জানান, অনেক ক্ষেত্রে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে ও ঢোল পিটিয়ে চিৎকার করেও বুনো হাতির দলকে সরানো যায় না। বেশি ভয় দেখালে হাতির পাল গায়ের দিকে তেড়ে আসে। এ কারণে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের পক্ষে কিছুই করার থাকেনা।

হাতি আক্রমণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরিদ উল আলম জানান, গত রবিবার থেকে বুনো হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। আবারও যে কোন মুহুর্তে তান্ডব চালিয়ে জান ও মালের ক্ষতিসাধন করতে পারে। হাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো সরকারী কিংবা বেসরকারী কোন সহযোগিতা পায়নি।

এ বিষযে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরই ইউনিয়নে বুনোহাতি আক্রমনের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তদন্ত পূর্বক বিধি মোতাবেক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল ও খাবার দিনদিন কমে যাওয়ার কারণে হাতির দল এখন লোকালয়ে নেমে পড়ছে। হাতিগুলোকে গভীর বনে সরিয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় বনবিভাগের লোকজন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

মাতারবাড়িতে ডাম্পার খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

শিক্ষার্থীদের ফাঁসাতে বাসে আগুন দেয় হেলপার নিজেই!

প্রথম আলো বিতর্ক উৎসবের ঈদগাঁও পর্ব বৃহস্পতিবার

ভারুয়াখালীতে কাইয়ুম উদ্দিনের চশমা মার্কার গণসংযোগ

পুলিশের মালখানায় চুরি: নতুন তালা দিয়ে গেলো ‘সচেতন’ চোর

নির্বাচন করছেনা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তারেক বিন মোক্তার

রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আবারো উত্তপ্ত রাঙামাটি

রোহিঙ্গাদের হাতে স্মার্ট ফোন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে

৩৬০ টাকার জন্য দেওয়া হয়নি এইচএসসি পরীক্ষা, আজ দেশ সেরা শিল্পপতি!

রাতের অন্ধকারে বদলে যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প

চমেক হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে আবারো পাস চালু

নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিশোধ মানুষের জীবন নিয়ে হয় না: চট্টগ্রামে সিইসি

সকল মুসলমান আমার ভাই, কষ্ট ভাগ করে নিতে নিউজিল্যান্ড সফর করবো: এরদোগান

নিউজিল্যান্ডের পর এবার অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি

মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার

ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি বুধবার

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না আবরারের

কুতুবদিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাগরের পক্ষে গণজোয়ার

জাকিয়া আনামের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ওমেন এন্টারপ্রিনিয়াস সম্মাননা গ্রহণ