সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দেশের গণমাধ্যমে ভয়াবহ দুর্দিন চলছে উল্লেখ করে কক্সবাজারে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এক সঙ্গে এত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও কয়েক হাজার সাংবাদিক বেকার থাকার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি। দিন দিন বেকার সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গোটা গণমাধ্যমে গভীর অমানিষা নেমে আসবে।

সোমবার (১ মে) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রবীন সাংবাদিক এসএম আমিনুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মমতাজউদ্দিন বাহারী, কামাল হোসেন আজাদ, শামসুল হক শারেক, হুমায়ুন সিকদার, ইমাম খাইর, ইসলাম মাহমুদ, মো. মাহবুবুর রহমান, ছৈয়দ আলম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থা এখন শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের চেয়েও শোচনীয়। মে দিবসের চেতনা আজ হুমকির মুখে। শতকরা ৮ভাগ সরকারি কর্মচারির বেতন একশ’ ভাগের বেশী বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ বাকী ৯২ ভাগ শ্রমজীবির আয় বাড়ানো হচ্ছে না। সংবাদকর্মীরা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বঞ্চিত ও নির্যাতিত।

বক্তারা বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে মহানবী (স.) যে বাণী দিয়ে গেছেন তা সর্বকালের সর্বযুগের সেরা। তিনি ঘাম শুকানোর আগে শ্রমিকের মজুরী পরিশোধের তাগিদ দিয়েছেন। মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নে জাতীয় কবি নজরুলের সাহসী উচ্চরণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা যায়।

বক্তারা বলেন, ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে মে দিবসের সূত্রপাত তার চেতনা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় বাংলাদেশে উচ্চবিত্তদের দ্বারা শ্রমিক সমাজ শোষিত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন গমাধ্যমের মালিকরা দিনে দিনে ফুলেফেঁপে পুষ্ট হলেও কর্মীরা বঞ্চিত। বহু প্রতিষ্ঠানের মালিক সংবাদকর্মীদের শোষণ করে বিত্তবৈভব গড়ছেন। মাসের পর মাস বেতন দেন না। তিনি বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড আদায় ও অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •