‘অন্ধকারাচ্ছন্ন পাকিস্তানে মাশাল ছিলেন এক আলোক শিখা’

বিদেশ ডেস্ক:

তার ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আল্লাহ মহান এবং মহানবী (স.) আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ’। সেই দেওয়ালে আবার কার্ল মার্ক্স আর চে গুয়েভারার মতো বস্তুবাদীরাও ছিলেন। ঘনিষ্ঠজনরা তাই তাকে সমাজতন্ত্র ও সুফিবাদের প্রতি অনুরক্ত হিসেবে চিনতেন। এই দুই দর্শনের সমন্বয়ে তিনি সরব ছিলেন মানবতার পক্ষে। ফেসবুকে দেওয়া পরিচয়েও নিজেকে হিউম্যানিস্ট হিসেবে পরিচিত করেছিলেন তিনি।

যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি পাকিস্তানি শিক্ষার্থী মাশাল খান। আবদুল ওয়ালি খান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এ তরুণ। সম্প্রতি ধর্ম অবমাননার গুজবে নিজ ক্যাম্পাসেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মাশালকে হত্যা করা হলেও অতীতে মাশাল ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত কিছু বলেছেন বলে এমন কোনও পুলিশ রেকর্ড নেই। পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা আর সনাতনী সমাজব্যবস্থার সমালোচক ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, ফেসবুক পেজে নিজেকে মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন মাশাল। বাবাও দাবি করেছেন তার ছেলে সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন। মাশালকে মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার শিক্ষক জিয়াউল্লাহ হামদর্দ। জিয়াউল্লাহ জানান, মাশাল তার কাছে একইসঙ্গে শিক্ষার্থী, বন্ধু ও পুত্রের মতো ছিল। বলেন, ‘মাশাল প্রদীপের মতো আলো ছড়াতো। যদি এভাবে সব প্রদীপ নিভে যায় তবে গোটা জাতি অন্ধকারে থাকবে।’

মাশালকে মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করে জিয়াউল্লাহ বলেন, ‘মাশাল মানবতাবাদী ছিল, সমাজতন্ত্র ও সুফিবাদ নিয়ে থাকতো। ও প্রায়ই আমার সঙ্গে সুফিবাদ নিয়ে আলোচনা করতো। আমি কখনও মাশালকে হাতে বই ছাড়া দেখিনি। বিভিন্ন ভাষায় তার পারদর্শিতা ছিল। তার সঙ্গে কোনও কিছু নিয়ে আলোচনা করলে তা ফলপ্রসূ ছিল।’

ধর্মের সঙ্গে মাশালের সম্পর্ক কেমন ছিল, তিনি বিশ্বাসী নাকি অবিশ্বাসী ছিলেন; সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও তার বন্ধুদের একাংশকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া বলছে, মতামত ও ভাবধারার দিক থেকে ইসলামের বিধানের প্রতি মাশালের পরিপূর্ণ আনুগত্য ছিল না। আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-স্বজনদের উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লজিক্যাল ইন্ডিয়ান বলছে, মাশাল ইসলামের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন কিন্তু তার মন খুব কৌতুহলী ছিল। ধর্ম নিয়ে তিনি অনেক প্রশ্ন করতেন। স্থানীয় এক টেলিভিশন স্টেশনের ভিডিওতে দেখা গেছে মাশালের হোস্টেলের কক্ষে ভাংচুর চালিয়েছে হামলাকারীরারা। মাশালের কক্ষের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আল্লাহ মহান এবং মহানবী (স.) আল্লাহর প্রতিনিধি’। আবার মাশালের দেয়ালে কার্ল মার্কস ও চে গুয়েভারার ছবিও ছিল।

মাশালকে সহিংস হামলাকারীদের কাছ থেকে বাঁচাতে না পারায় তার বাবা-মা ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিয়াউল্লাহ। কেবল তাই নয়, এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জিয়াউল্লাহ বলেন, তারা (হামলাকারীরা) আমার সামনেই ছিল, তারপরও আমি কিছুই করতে পারিনি। গত চারদিন ধরে আমি ঘুমাতেও পারিনি।’

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সম্প্রতি মাশালের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার গুজব ছড়ানো হয়। গুজব সৃষ্টিকারীরা প্রচার করতে থাকেন, ধর্ম অবমাননা হলেও এ ঘটনায় পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই গুজবের জেরেই গণপিটুনিতে মাশালকে হত্যা করা হয়। গণপিটুনির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে। এ হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরই একজন সোমবার (১৭ এপ্রিল) পুলিশকে একটি বিবৃতি দেন। ওয়াজাহাত নামের ওই শিক্ষার্থী বিবৃতিতে স্বীকার করেন তিনিও মাশালের ওপর হামলাকারীদের দলে ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

যে ছবি কক্সবাজারবাসীকে গৌরবান্বিত করে

জেলাজজের বদান্যতায় ১৭ বছর জেলে থাকা আনোয়ারার জামিন

কবি আল মাহমুদ স্মরণ সভা আজ বিকেল ৪ টায়

জেলা সদর হাসপাতালের দুর্নীতি তদন্তে দুদক টিম

সৌদি যুবরাজের নির্দেশে মুক্ত হচ্ছেন ২১০০ পাকিস্তানি বন্দি

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জবি রণক্ষেত্র, সাংবাদিকসহ আহত ৩০

কাশ্মীরের পক্ষ নেয়ায় ধর্ষণের হুমকি, অতঃপর নিখোঁজ শিক্ষিকা

ভারতে না গিয়ে দেশে ফিরে গেলেন প্রিন্স সালমান

হাসপাতালের ডাস্টবিনে ৩১ নবজাতকের লাশ

কালিরছড়ায় একটি ব্রীজের অভাবে দূূর্ভোগে ৫ সহস্রাধিক মানুষ

রাঙামাটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯৩ প্রার্থী

সালমান মুক্তাদিরের খোঁজ চাইলেন আইসিটি মন্ত্রী

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংস্কার কাজ চলছে মন্থর গতিতে

‘বিদেশের মাটিতে সিবিএন যেন এক টুকরো বাংলাদেশ’

বারবাকিয়া রেঞ্জের উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ

কাতারে কক্সবাজারের কৃতি সন্তান ড. মামুনকে নাগরিক সমাজের সংবর্ধনা

এনজিওদের দেয়া ত্রাণের পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

পেকুয়ায় ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

উখিয়ায় পাহাড় চাপায় আবারো শ্রমিক নিহত

চট্টগ্রামে ৩দিনেও মেরামত হয়নি গ্যাস লাইন, চরম ভোগান্তি