বিশেষ প্রতিবেদক:

মা-বাবাহীন পঞ্চম শ্রেনীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের ঘটনায় পালক পিতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সহযোগিতায় শিশুটির পালক মা তাহমিনা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন। মঙ্গলবার উখিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, ধর্ষনের অভিযোগে পালক পিতার বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। আসামীকে আটকের চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, ‘আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভিকটিম যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পায় তাও নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার মৃত মোহাম্মদ কালুর পুত্র আজিজুল ইসলাম তাঁর ১৩ বছর বয়সী পালক মেয়ে সন্তানকে ধর্ষন করেন। ধর্ষনের পর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি। আজিজ নিজেই ওষুধ নিয়ে মেয়েটিকে খেতে বাধ্য করতো। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন কৌশলে ঘরে আটকে রাখা হয়। মেয়েটির অবস্থা বেগতিক দেখে আজিজের স্ত্রী তাহমিনা শিশুটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ খাইরুন্নেছা মুন্নীকে দেখান। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর সেখানে গত চারদিন ধরে যন্ত্রনায় ছটফট করছে শিশুটি। ভয়ে-আতঙ্কে মুষড়ে পড়েছে অসহায় এই শিশু। শিশুটির চিকিৎসা ও আইনী সহায়তা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। গত রবিবার ঘটনাটি বেসরকারি সংস্থা নারী ও শিশু সুরক্ষা নেটওয়ার্কের নজরে আসলে তা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে। গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে শিশুটিকে ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। ধর্ষনের শিকার শিশুটি জানায়, তার পালক পিতাই তাকে ধর্ষন করেছে। এমনকি তাকে ওষুধ খেতে বাধ্য করা হতো। অসূস্থ হলেও তাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। তার পালক মায়ের সহায়তায় সে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’ শিশুটি তার প্রতি এই অবিচারের সুবিচার দাবী করেছে।

আজিজুল ইসলামের স্ত্রী ও শিশুটির পালক মা তাহমিনা বলেন, ‘শিশুটিকে চার বছর বয়স থেকে আমি লালন-পালন করে আসছি। তার মা ভারতে আর বাবা থাকেন মালয়েশিয়ায়। এ অবস্থায় আমার নিজের স্বামীকে শিশুটি বাবা বলে ডাকতো। কিন্তু সম্প্রতি আমি বাসায় না থাকার সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষন করে। পরে তাকে চিকিৎসাও নিতে দেয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন দেখলাম যে এভাবে থাকলে শিশুটি বিনাচিকিৎসায় মারা যাবে। তখন আমি বাধ্য হয়ে স্বামীর কথা না শুনেই শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসি।’ মঙ্গলবার উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও তিনি জানান।

ওসিসি’র প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজালাল বলেন, ‘শিশুটির বক্তব্য শুনেছি। তাকে গত সোমবার সকাল থেকে ওসিসিতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। একই সাথে গতকাল মঙ্গলবার ওসিসি’র মাধ্যমে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •