ভারতের সঙ্গে হাসিনার সম্পর্ক মজবুত হলেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি স্বল্প

ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর এ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে তার জন্যই সন্তোষজনক হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতা, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পাকিস্তানের দুর্বৃত্তপনার প্রেক্ষাপটে এ কথা বলা যায়।
ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি অনেকটা ব্যক্তিগতভাবে ঐতিহ্যের ধারা ভেঙ্গে তাকে হোটেলে না রেখে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কোন মন্ত্রীকে না পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে মোদি নিজেই বিমানবন্দরে ছুটে যান। বাঙ্গালি পুত্র মুখার্জির জন্য ইলিশ মাছ, মিষ্টি ও দই নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতিকে নিজ হাতে ইলিশ রান্না করেও খাইয়েছেন। পোশাক-আশাকের ব্যাপারে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে মোদি’কে তিনি রেশমি বস্ত্র উপহার দিয়েছেন।

কিন্তু সাত বছর পর সফরে গিয়েও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের জন্য তেমন কোন প্রাপ্তিযোগ ঘটাতে পারেননি। বিশেষ করে তিস্তাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য ভাগাভাগি প্রশ্নে বাংলাদেশের কোন প্রাপ্তি নেই।

হাসিনা একটি বিতর্কিত প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন। বাহ্যিকভাবে নির্দোষ মনে হলেও সেখানকার বিরোধী দল একে স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ক্ষেত্রটির ওপর বহিরাক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে।

দু’দেশের মধ্যে ক্রমে বেড়ে চলা বাণিজ্য ঘাটতি সমস্যার সমাধান করতেও এই সফর ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ সালের হিসাবে দেখা যায় ভারত ৫.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য বাংলাদেশে রফতানি করেছে। বিপরীতে আমদানি করেছে মাত্র ৬৮২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশকে যা দিচ্ছে তারচেয়ে বহুগুণ নগদ অর্থ সেখান থেকে যে ভারত নিয়ে আসছে এটা তারা স্বীকার করছে না।

মান নিয়ন্ত্রণের অযুহাতে বাংলাদেশী পণ্য ভারতে শুল্ক-বহির্ভুত বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। ভারতের এন্টি-ডাম্পিং আইনও সেখানে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রফতানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মোদি এর কোন সমাধান দেনটি, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষোভের প্রতি নজর দেবেন। যেভাবেই দেখা হোক না কেন, বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বড় কোন পরিকল্পনা তার নেই।

‘কাজ চলছে’ এই অযুহাতে ভারত নদীর পানি বন্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা ঝুলিয়ে রেখেছে। পানি সমস্যার সমাধান ছাড়াই প্রতিরক্ষা চুক্তি করে ফেলা আগামী সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার জন্য বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই ইস্যুগুলো দীর্ঘমেয়াদে দুর্দশা বাড়িয়ে তুলবে।

বাংলাদেশের বিরোধী দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে বলেছেন যে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধান করতে হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগেও দলটি বলেছে, ঝুলে থাকা তিস্তা’র ব্যাপারে একটি অনুকূল চুক্তি নিশ্চিত করতে না পারলে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের কোন মূল্য নেই। বাংলাদেশীরা যদি ভারতের বিরুদ্ধে হটকারি ও শত্রুতামূলক মন্তব্য অব্যাহত রাখে তাহলে দেশটি বাংলাদেশের সকল দাবি অগ্রাহ্য করতে পারে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তার কথায় জনগণ কতটা কান দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পাকিস্তান ফ্যাক্টর
পাকিস্তান নামটি প্রকাশ্যে উচ্চারিত না হলেও শেখ হাসিনার সফরের ওপর ছায়াপাত করেছে এই দেশ। পাকিস্তানের ব্যাপারে ভারত ও বাংলাদেশ একই রকম শত্রুতামূলক মনোভাব পোষণ করে। ইসলামাবাদ ‘সন্ত্রাস রফতানি করছে’ বলে অভিযোগ ভারতের। আবার, বাংলাদেশে যুদ্ধপরাধীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। হাসিনা-মোদি’র সম্পর্ক জোরদারের পেছনে ভারত-বাংলাদেশের এই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে যে ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আলোচনা শেষে প্রাকাশিত যৌথ ঘোষণাপত্রে মোদি ও হাসিনা (পাকিস্তানের বিরুদ্ধে) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিহত ও দুর্ভোগকবলিত মানুষের স্মৃতিকে ‘স্বীকৃতি দান ও সংরক্ষণের’ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ করতে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন মোদি। তিনি প্রতি বছর ১০০ মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের একটি ‘বিশেষ প্রকল্প’ ঘোষণা করেছেন। ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বৃত্তিদান প্রকল্পের মেয়াদ আরো পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চালুরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত ১ হাজার ৬৬১ ভারতীয় সেনার স্মরণে দিল্লিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো। হাসিনা প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ রুপি ও একটি করে রৌপ্যপদক উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেছেন: ‘বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে যেসব ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধ করেছে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রজন্ম তাদের কথা স্মরণে রাখবে।’

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অশোক কুমার তারার সঙ্গে সাক্ষত করেন শেখ হাসিনা। অশোক তখন ছিলেন এক তরুন মেজর। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কবল থেকে হাসিনার পরিবারকে রক্ষা করেছিলেন তিনি।

তিস্তার পানি
১৯৭১ সালের স্মৃতি হাসিনা ও মোদি’র বন্ধন জোরদার করলেও তিস্তার পানি এই বন্ধনের মধ্যে একটি বিভক্তি রেখা তৈরি করে রেখেছে। এ ব্যাপারে তারা সমঝোতায় আসতে চান না, তা কিন্তু নয়। সমস্যা হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একগুঁয়েমি।

মোদি ও প্রেসিডেন্ট মুখার্জির আহবানে নয়াদিল্লির আলোচনায় মমতা অংশ নিলেও তিনি তার এতদিনের অবস্থান থেকে নড়েননি। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বর-এপ্রিলের সময়টিতে যখন বাংলাদেশের (এবং ভারতেরও) সবচেয়ে বেশি পানি প্রয়োজন, তখন তিস্তায় পানি থাকে না।

তার বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের প্রধামন্ত্রীর দফতরের আলোচনায় তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে জলাধার তৈরির জন্য কেন্দ্রিয় সরকার তহবিল দেবে। তখন এই পানি শুষ্ক মওসুমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করা যাবে। কিন্তু মমতা এই প্রস্তাব মেনে নেননি। শুষ্ক মওসুমে তিস্তায় পানি থাকে না, উত্তরবঙ্গে মানুষ পানীয় জল ও সেচের জন্য এই নদীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল — এ কথাতেই মমতা অনড়। তিস্তার দাবি বাদ দিয়ে তোর্ষা, ধরলা, জলঢাকা, ধানসিঁড়ি ও মানসিড়ি’র মতো অন্য অভিন্ন নদী’র পানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। তিনি এসব নদীতে পানির প্রাপ্যতার ওপর একটি যৌথ জরিপেরও প্রস্তাব দিয়েছেন।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষ তিস্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তিস্তার বন্যায় পশ্চিমবঙ্গে যেখানে ৮০ লাখ লোক আক্রান্ত হয়, সেখানে বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি নদী রয়েছে। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে ভারত ৪৩ নদীতেই একতরফাভাবে বাঁধ দিয়েছে। তাই তিস্তার ওপর জোর দেয়া হলেও সবগুলো অভিন্ন নদী’র ব্যাপারে একটি ব্যাপকভিত্তিক পানিবণ্টন চুক্তির কথা বাংলাদেশ বলে আসছে।

পানি নিয়ে ভারতের কালক্ষেপনের কারণ এটি তার রাজ্যগুলোর জন্যও একটি ইস্যু। এই ইস্যু ক্রমেই চরম স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে এবং তা ‘পেন্ডোরা বক্স’ খুলে দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি করছে। মোদি’কে এই সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে হবে এবং মমতাকে তুষ্ট করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি জরিপ করে। ২০১২ সালে দেয়া ওই জরিপ রিপোর্টে রুদ্র বর্ষায় ৬০:৪০ এবং শুষ্ক মওসুমে ৭০:৩০ অনুপাতে পানি বন্টনের পরামর্শ দেয়। রুদ্র পানি ধরে রাখতে বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করেন। দু:খজনক ব্যাপার হলো এসব বাঁধ বর্ষাকালে বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পানির চাপ সামলাতে বাঁধের গেট খুলে দেয়া হলে সমতল এলাকা প্লাবিত হয় এবং আরো বেশি সংখ্যক মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

তবে, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সরকারের পরামর্শ ছিলো তিস্তার পানিতে ভারতের অংশ হবে ৪২.৫% এবং বাংলাদেশের ৩৭.৫%। কিন্তু মমতার তীব্র বিরোধিতা এবং তার ১৯ জন এমপি’র তীব্র সমালোচনার মুখে মনমোহন তখন ওই পরিকল্পনা বাদ দিয়েছিলেন। এবারও হাসিনার সঙ্গে ইস্যুটির নিস্পত্তিতে চরমভাবে ব্যর্থ হলেন মোদি। তার প্রলোভন মমতাকে ভোলাতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তি
দ্বিতীয় যে বিতর্কিত ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে উৎপীড়ন তৈরি করেছে তা হলো শনিবার স্বাক্ষর হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দু’টি সাবমেরিন কেনার পরপরই এ ধরনের চুক্তি করতে ভারত উঠেপড়ে লাগে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ঢাকায় ছুটে গিয়ে হাসিনাকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালান যেন তিনি অস্ত্রের জন্য চীনের কাছে না গিয়ে ভারতের কাছে আসেন। তিনি ২৫ বছর মেয়াদি একটি ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করারও প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ তার সমরাস্ত্রের প্রায় ৮০শতাংশ চীন থেকে আমদানি করে। কিন্তু এই সাবমেরিন কেনাতেই ভারতের প্রতিক্রিয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যাকে বলে ‘দ্যা লাস্ট স্ট্র অন দ্যা ক্যামেল্স ব্যাক’। ভারতের ‘প্রভাব’ বলয়ে চীনের অনুপ্রবেশের ব্যাপারে দিল্লি’র সংবেদনশীলতা অনুধাবন করতে পেরে প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে হাসিনা কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। বিরোধী দল এ ব্যাপারে তারস্বরে চীৎকার করলেও হাসিনা সরকার নিশ্চুপ ছিলো।

কিন্তু যখন জানা গেলো নিজের পছন্দ মতো কোন দেশের বদলে বাংলাদেশকে ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে হবে — দিল্লি সফরে গিয়ে হাসিনা এমন চুক্তি করে আসবেন তখন চারদিকে সমালোচনা তীব্র হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ভাষ্যকারদের মতে এটা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি একটি আঘাত এবং এর বীরোচিত স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য একটি অপমান। তাই সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিরোধ করা হবে।

ভারত অস্ত্র কেনার জন্য বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে। এর মাধ্যমে নিম্ন মানের অস্ত্র গছিয়ে দেয়া হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা এ প্রশ্নও তুলেছেন যে ভারত যখন নিজেই অস্ত্র আমদানি করছে তখন সে কিভাবে অস্ত্র বিক্রি করবে। ২০১৬ সালে ২৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র আমদানি করে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়। অন্য দিকে বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসার ৬ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে। তারা ফ্রান্স বা জার্মানি থেকেও বেশি অস্ত্র রফতানি করে। তবে ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অস্ত্রবাজারে ভারতের প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। ভারত এই মুহূর্তে কোন বড় অস্ত্র তৈরি করছে না। বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতে তারা কেবল হালকা অস্ত্রই রফতানি করতে পারবে।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে কারণ হলো দেশটির নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দান থেকে চীনকে দূরে রাখা। এ ধরনের প্রশিক্ষণ অনুশীলনের মধ্য দিয়ে চীন বঙ্গোপসাগর এলাকার সঙ্গে পরিচিত হতে পারতো। এই এলাকাটিকে ভারত নিজের একটি ‘হ্রদ’ বলে মনে করে। প্রতিরক্ষা চুক্তির সমর্থকরা আরো বলেছেন, এ চুক্তির আওতায় দেয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ কিভাবে খরচ করবে এটা তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপার বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়ে দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারে ভারতের হস্তক্ষেপ হওয়ার কোন বিপদ নেই।

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প
মোদি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রফতানি সম্ভাবনা বাড়াতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এ বছর জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর জানিয়েছিলেন যে, ভারত ৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করেছে এবং ২০১৯ সাল নাগাদ এই রফতানি ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা করছেন। অস্ত্র রফতানি সহজ করতে সরকারের আলাদা ‘প্রতিরক্ষা রফতানি প্রতিষ্ঠান’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০২২ সাল নাগাদ ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ৬২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশী অংশীদারদের ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত দিতে রাজি। এ পর্যন্ত ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন সামরিক চুক্তি হয়েছে।

ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানি ভারতে রাফায়েল জঙ্গি বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগের ব্যাপারে ফ্রান্সের বিমানসংস্থা ‘দাসল্ট’-এর সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে ২০১৬ সালের এক খবরে জানা যায়। একই বছর রাশিয়া জানায় যে, তারা ভারতে ‘কামভ ২২৬টি’ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছে। লকহিড মার্টিন কোম্পানিও জানিয়েছে যে তারা ভারতে এফ-১৬ জঙ্গী বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি’র কারখানা স্থাপনে আগ্রহী। শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্যই নয় এখান থেকে যন্ত্রাংশ রফতানিও করা হবে। গ্রিফেন বিমান উৎপাদনের একটি আলাদা প্লান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে সুইডিশ কোম্পানি সাব।

২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট উৎপাদনের জন্য ৩৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দিয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে এগুলোর মধ্যে। বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: ভারত ফর্জ লি. (বিএফএল), রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি. (আরআইএল), টাটা গ্রুপ, লারসেন এন্ড টার্বো লি. (এলএন্ডটি), গোদরাজ গ্রুপ ও মাহিন্দ্রা গ্রুপ। এই প্রতিযোগিতা সম্প্রতি যোগ হয়েছে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ ও আদানি গ্রুপের আদানি ডিফেন্স সিস্টেমস এন্ড টেকনলজিস লি.।
বর্তমানে ভারত তার প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের ৭৫% আমদানির মাধ্যমে পূরণ করছে। সরকারি খাত ও অভ্যন্তরিণ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে যথাক্রমে ২০ ও ৫ শতাংশ। কিন্তু, সরকারি সূত্র মতে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ২৫ শতাংশ হয় বেসরকারি খাতে।

তবে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প ফলবতি হতে অনেক সময় নেবে। রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশীয়করণের কাজটি অর্থবহ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনটি শাখাকেই উন্নত করার প্রয়োজন হওয়ায় রফতানির চেয়ে দেশটিকে অভ্যন্তরিণ প্রয়োজন মেটানোর দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। দেশটির বিমানবাহিনীর এখনই আরো ২০০ জঙ্গী বিমান প্রয়োজন ।

হাসিনার সফরকে ধন্যবাদ দিতে হয় নয়াদিল্লিকে বন্ধুত্বের আশ্বাস দেয়ার জন্য। কিন্তু এই সফর থেকে বাংলাদেশ যে উল্লেখযোগ্য কিছু পায়নি তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যা আগের মতোই গুরুতর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে এসেছেন যাতে বাংলাদেশীরা তাদের গলায় ফাঁস পড়ানো বলে মনে করে।

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশীরাই তাদের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজন নির্ধারণ করবে বলে মোদি যে আশ্বস্ত দিয়েছেন তাতে বাংলাদেশীরা আশ্বস্ত হবে বলে মনে হয় না। সীমান্তের ওপারের ‘বড় ভাই’ যদি চীনের কোন উদ্যোগকে হুমকি বলে মনে করে তাহলে বাংলাদেশকে বাধ্য করার একটি বড় লিভারেজ এখন সে পেয়ে গেলো।

পি কে বালাচন্দ্রন

সুত্র- দৈনিক মানবজমিন

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

গাজাসহ ডিআরসি কর্মকর্তা আটক

কক্সবাজার-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চূড়ান্ত প্রার্থী আলহাজ্ব ডাঃ মুহাম্মদ আমীন

চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে আধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন

খাশোগি হত্যায় ৫ সৌদি কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশ

কেন শুরু হলো না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন?

মেরিন ড্রাইভ সড়কে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

জুমার দিনের দোয়া: নাজিমরা ফিরে আসুক কল্যাণের পথে

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা-নজরদারিতে এবার আর্মড পুলিশের নতুন ব্যাটালিয়ন

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব, হচ্ছেনা বিশ্ব ইজতেমা

ঈদগাঁওতে পিএসপি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

দেশপ্রেমিক আদর্শ জনগোষ্ঠী তৈরী করছে কওমি মাদ্রাসা -আহমদ শফী

১৯৯০ ব্যাচের ছাত্র নুর রহিমের মায়ের মৃত্যু, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের শোক

ভোট আর পেছাচ্ছে না

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঈদগাঁওতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

চকরিয়া পৌর যুবলীগ নেতা ফরহাদ আর নেই, জানাজা সম্পন্ন

বেবী নাজনীন ছাড়া পেয়েছেন, নিপুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

চকরিয়ায় উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মশালা সম্পন্ন

চকরিয়ার সাংবাদিক বশির আল মামুনের মাতার ইন্তেকাল

শহীদ জিয়া স্মৃতি মেধা বৃত্তি পরীক্ষার চকরিয়া কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন

নয়াপল্টনে ‘ট্রাফিকের’ দায়িত্বে বিএনপি কর্মীরা