এম.এ আজিজ রাসেল:

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের দ্বি—বাষিক নির্বাচন।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ১১৬৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তারমধ্যে আজীবন সদস্য রয়েছেন ১২৩ জন। ৯৫টি ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ১১ জন করে রয়েছেন ১০৪৫ জন।

সকালে কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সরব পদচারণা। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের মন জয় করতে নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রার্থীরাও থেমে নেই। জয়ের মালা পড়তে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে তাঁরা। সকাল ৮টা থেকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে ভোট উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতিও। দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস্তাফিজুর রহমান ও সদস্য এড. গোলাম ফারুক খান কায়সার বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন চলছে। নির্বাচন ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। আশা করছি কোন অঘটন ছাড়া ভোট গ্রহণ শেষ হবে।

নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, সভাপতি পদে প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (দেওয়ালঘড়ি), সিনিয়র সহসভাপতি পদে আলহাজ¦ আমিনুল ইসলাম (হারিকেন), সহ—সাধারণ সম্পাদক পদে খালেদ ওমর রানা (তালা), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবু আহমদ (আপেল), দপ্তর সম্পাদক পদে মো. জাফর আলম (সেলাই মেশিন), সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে আহমদ কবির (চশমা) ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (মিনার)।

বাকি ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁরমধ্যে সহ—সভাপতি পদে লড়ছেন ৩ জন। তাঁরা হলেন আমিনুল ইসলাম হাসান (খেজুর গাছ), নুরুল কবির চৌধুরী (বাইসাইকেল) ও মো. জসিম উদ্দিন (হরিণ)।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, মুছা কলিম উল্লাহ (পাঞ্জাবী), আলহাজ¦ আবুল হাশেম সওদাগর (চাকা), আবদুল্লাহ আল মাসুম আসিফ (মোমবাতি) ও নজরুল ইসলাম (উড়োজাহাজ)। এদের মধ্যে মুছা কলিম উল্লাহ ও আলহাজ¦ হাশেম সওদাগরের মধ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সিনিয়র সহ—সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাঁরা হলেন, শাহীনুল ইসলাম (মোরগ) ও মোতাহের হোসাইন (মাছ)।

প্রচার সম্পাদক পদে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জহিরুল ইসলাম (মাইক) ও শফিউল আলম (টেলিফোন)। নির্বাচনে জয়ের মালা পরতে তারা দুজনই সমানতালে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে নজিবুল্লাহ খান (কলম) ও মোস্তফা কামাল মিন্টু (বই) প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক পদে টেবিল ফ্যান নিয়ে লড়ছেন আবদুল জব্বার। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছেন ময়ুর প্রতীকের মো. হেলাল উদ্দিন। নানা কৌশলে তাঁরাও জয় হতে মরিয়া।

তাছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ক্রিকেট ব্যাট প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন তরুণ ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইমরান ও দোয়াত কলম প্রতীকের ইমাম হোসেন।

সর্বশেষ ৫টি নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে লড়ছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, আজিব চৌধুরী (লাটিম), আবুল কালাম (প্রজাপতি), শাহ খোরশেদ আলম (কলসী), মো. নাসির উদ্দিন (হাতঘড়ি), কামরুল হাসান (শাপলা), জিয়া উদ্দিন মাহমুদ (উটপাখি) ও বজল করিম (দোয়েল পাখি)।

নির্বাচনে কে হাসবে বিজয়ের শেষ হাসি তা দেখার অপেক্ষায় পুরো জেলাবাসী।