সিবিএন ডেস্ক: মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেছেন, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। ইসলামই সবচেয়ে অসম্প্রদায়িক ধর্ম। অন্য কোন ধর্মে হস্তক্ষেপ করাকে ইসলাম কখনই সমর্থন করে না।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে যুব উন্নয়ন সংসদ, ঢাকা আয়োজিত ‘দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন যুবশক্তি গঠনে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, অ্যাসাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, যুব উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আতিয়ার রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান। সভা পরিচালনা করেন, যুব সংসদের নেতা কামাল হোসাইন।

ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, দেশ উন্নত করতে যুবকদের শিক্ষিত করার বিকল্প নেই। তবে যুবকদের শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। আর এ নৈতিক শিক্ষা অন্য কোন মাধ্যমে নয়, ওহীর শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ওহী লাভের আগে যুবক বয়সে হিলফুল ফজল গঠন করেছিলেন। কিন্তু ওহী লাভের পরই তিনি সফলতা লাভ করেছিলেন। আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। বর্তমানেও রাসুল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করা ছাড়া আলোকিত সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়।

প্রকৌশলী শেখ আল আমিন বলেন, দেশ উন্নত করতে যুব সমাজকে তৈরি করতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট দিয়েই তা সম্ভব নয়। কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। কারণ যুবকরা যদি সৎ না হয় তাহলে তাদের সে শিক্ষা কেবল বড় বড় দুর্ণীতিবাজ তৈরিতে কাজে লাগবে। তা জাতির কোন কাজে আসবে না। বর্তমান সময়ে আমরা তার বাস্তব উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি।

অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার। এভাবে যুব শক্তির অপচয় করা হচ্ছে। দেশে যদি কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হত তাহলে এত যুবক বেকার থাকতো না। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যেন যুবকরা প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। মাদকাসক্ত ও পরিবারের বোঝা না হয়। ড. হেলাল বলেন, আল্লাহমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সমাজে সুখ ও শান্তি আনা সম্ভব নয়।

ডা. আতিয়ার রহমান বলেন, দেশের যুবকরা বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিকল্পিতভাবে যুব শক্তিতে ধ্বংস করতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এসব মাদকদ্রব্য আসছে। এখনই যদি এসব মাদকের প্রবেশ ঠেকানো না যায় তাহলে যুবকদের তথা দেশের ভবিষ্যত অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে যাবে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, পরকালিন জীবনে যে কয়টি বিষয়ে বিশেষভাবে জবাব দিতে হবে তারমধ্যে যুবক বয়সে কাজের হিসেব অন্যতম। এজন্য যুবক বয়সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবকরা যদি নৈতিকতা সম্পন্ন না হয় তাহলে তারা নিজেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মূল প্রবন্ধে ড. আব্দুল মান্নান বলেন, যুব সমাজ একটি দেশ ও জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। যুবসমাজের মেধা, সৃজনশীলতা, সাহস ও প্রতিভাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে একটি জাতির অর্থনেতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। তাই বলা যায়, আমাদের যুবসমাজ আমাদের কর্ণধার, নীতি নির্ধারক ও সিদ্ধান্তকারী শক্তি। জনসংখ্যার সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ও উৎপাদনমুখী অংশ হচ্ছে যুবসমাজ। দেশের অসংগঠিত, কর্মপ্রত্যাশি এ যুবগোষ্ঠিকে সুসংগঠিত ও উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তর করাই আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে জাতির যুবসমাজ যত উন্নত সেই জাতি তত বেশি উন্নত। যুব সমাজ পথ হারালে গোটা জাতিই পথ হারিয়ে ফেলে।