মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ইয়াবা টেবলেট পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি-কে কোন পরীক্ষা ছাড়াই ফিটনেস সনদ, কর পরিশোধ সনদ ও রেজিষ্ট্রেশন সনদ দেওয়ার অভিযোগে বিআরটিএ’র কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক (এডি) কে শোকজ করেছে কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী। বৃহস্পতিবার ৪ নভেম্বর আদালত শোকজ এর এ আদেশ দেন।

কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের কক্সবাজারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক ইলাহি শাহাজাহান নূরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিয়মকানুন না মেনে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ওই গাড়ির সনদ সমুহ সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আদালতের কাছে প্রমানিত হওয়ায় বিআরটিএ’র কক্সবাজারস্থ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আদালতের আদেশের কপি কেন পাঠানো হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না-মর্মে ব্যতিক্রমী এ আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সহকারী পরিচালক উথোয়াইনূ চৌধুরী’কে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক ইলাহি শাহাজাহান নূরী মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে আরো জানান, ২০১৯ সালে সিএনজিতে বিশেষ কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় উখিয়া থেকে ৩ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট সহ মহিন উদ্দিন নামে এক সিএনজি মালিক ও চালককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় মহিন উদ্দিনকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর : ৬৮/২০১৯ ইংরেজি। ইয়াবা টেবলেট পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করে তখন থেকে আদালতের জিম্মায় রাখা হয়। একই বছর ১২ মার্চ জনৈক আবু নোমান সিএনজিটির মালিক দাবী করে আদালতের কাছে সিএনজিটি জিম্মা পাওয়ার আবেদন করে। আদালত তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) কে সিএনজি’র মালিকানার বিষয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিআরটিএ কক্সবাজারের কাছে সিএনজিটির বিষয়ে প্রতিবেদন চায়। এরই প্রেক্ষিতে একই বছরের ৮ এপ্রিল জব্দকৃত সিএনজিটির রেজিষ্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নেই বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। যেখানে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু স্বাক্ষরিত একটি সংযুক্তি পত্রও ছিল। তখন আদালত সিএনজিটি আবেদনকারী মহিন উদ্দিনকে আর জিম্মা দেয়নি।

এরপর চলতি বছরের ৪ নভেম্বর সিএনজিটি সেই জিম্মা না পাওয়া মহিন উদ্দিনের কাছ থেকে ২০২১ সালের ১৫ জুলাই ফজল আহমদের ছেলে মোঃ ইউনুছ ক্রয় করেছে দাবী করে সিএনজিটি জিম্মা পেতে আদালতে আবারো আবেদন করে। এ আবেদনের সাথে জিম্মাপ্রার্থী মোঃ ইউনুছ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক উথোয়ানুই চৌধুরী স্বাক্ষরিত সিএনজটির ফিটনেস সনদ, রেজিষ্ট্রেশন সনদ ও কর পরিশোধের কাগজপত্র সংযুক্ত করে দেয়। অথচ এই সহকারী পরিচালক উথোয়ানুই চৌধুরীই ২ বছর আগে একই সিএনজিটির রেজিষ্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নেই বলে আইও-কে জানিয়েছিলেন।

আদালতে মোঃ ইউনুছের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ মামলার নথি পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষনে প্রতীয়মান হয়েছে, ৩ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট সহ আদালতের জিম্মায় থাকা জব্দ থাকা সিএনজিটি পরীক্ষা নীরিক্ষা না করেই বিআরটিএ অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সনদ সমুহ সরবরাহ করেছে। এ কারণে বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালককে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখা দিতে বলেছে বিজ্ঞ বিচারক আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী।