বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এমএ বলেছেন, শুধু চেয়ারে বসে থাকলে হবে না। যার যেটা দায়িত্ব সেটা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য এতদিনেও আমরা চকরিয়া পৌরশহরকে যানজট, ফুটপাত ও চাঁদাবাজমুক্ত পৌরসভা উপহার দিতে পারিনি। তাই পৌরমেয়র, ইউএনও, থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ পৌরসভা উপহার দিতে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে যেখানে আমার সহায়তার দরকার পড়বে সবসময় আমি দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এমপি জাফর আলম আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গাসহ নানা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
চকরিয়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপরোক্ত দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এমপি জাফর আলম।
সভায় কমিটির বিভিন্ন সদস্য পৌরশহরের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসন, পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তা কর্তৃক যত্রতত্র ফুটপাত দখলে দিয়ে বসানো অবৈধ ফলমণ্ডিসহ বিভিন্ন হকারের দোকান অপসারণ, বালিকা বিদ্যালয় সড়কে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করা, পৌরশহরে ইজিবাইক (টমটম), তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি রোধ করা, পৌরশহরকে পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরে এসবের প্রতিকার কামনা করেন বক্তারা। এরই প্রেক্ষিতে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন এমপি।
ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক চুট্টু, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তপন কান্তি দাশসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
সভায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ বলেন, চকরিয়া পৌরশহর এখন আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দৈনিক টাকা আদায়ের ভিত্তিতে সড়কগুলোর দুইপাশ দখলে নিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে অবৈধ ফলমণ্ডি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হকারদের। তার ওপর সড়ক দখল করে যত্রতত্র অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড বানিয়ে পৌরশহরকে একটি যানজটের শহরে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। বালিকা বিদ্যালয় সড়ক দিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। বিদ্যালয়টি সামনে পৌরসভার ডাস্টবিন বানানোর কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা দুরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে পরিত্রাণ দিতে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।
এসব বক্তব্য দেওয়ার সময় চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী প্রথমে অভিযোগকারীকে ভৎসনা করেন। পরে কমিটির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে এসব বিষয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সভাকে অবহিত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •