বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধিগ্রহণের প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা অল্পের জন্য আত্মসাত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। কক্সবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কতিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছিলেন দিলরুবা হাসান নামের এক গৃহবধূ। তিনি কক্সবাজার শহরের ব্যবসায়ী মো. জানে আলমের স্ত্রী। তবে অধিগ্রহণের টাকার ওই চেক একটি বেসরকারি ব্যাংকের জমা হওয়ার পর জেলা একাউন্টস ও ফিন্যান্স কর্মকর্তার তৎপরতায় শেষ মুহুর্তে চেকটি বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমান বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ হওয়া ওই জমি পুরোটাই শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড কক্সবাজার শাখার নামে ‘রেজিষ্ট্রিকৃত মর্টগেজ ও অপ্রত্যাহার যোগ্য আমমোক্তারনামা’ করা ছিল। কিন্তু ওই জমি অধিগ্রহণ হওয়ায় জমির সেই টাকার দাবিদার হয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। তবে সম্পত্তির মর্টগেজ দাতা দিলরুবা হাসানের স্বামী মো. জানে আলমের তৎপরতায় ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার নির্দিষ্ট হিসাব নাম্বারে অধিগ্রহণের টাকার চেকটি জমা দেয়া ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চেক হস্তান্তরের শর্তে শাহজালাল ব্যাংক জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ‘অনাপত্তিপত্র’ দেয়। কিন্তু জমির দিলরুবা হাসান ও তার স্বামী মো. জানে আলম ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাদের সাথে অনৈতিক যোগসাজস করে চেকটি গ্রহণ করে অন্য একটি ব্যাংকের একাউন্টে জমা দিয়ে পুরো টাকায় আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ইস্যুকৃত ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০৫ টাকার চেকটি বাতিল করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স শাখা।

ব্যাংক সূত্র মতে, কক্সবাজার মৌজার বিএস ৫৯১ খতিয়ানের সৃজিত ৩৪৩২ খতিয়ানের বিএস ১৯৪ দাগের ৪০ শতক জমি জমির মালিক দিলরুবা হাসান তার স্বামী মো. জানে আলমের মালিকানাধীন মেসার্স হিমায়ন সী-ফুডস ও মো. জানে আলমের নামে নেয়া ব্যাংক ঋণের বিপরীতে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখার অনুকূলে রেজিষ্ট্রিকৃত মর্গগেজ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তার নামা দেন। পরে ব্যাংকের নামে বন্ধক রাখা ৪০ শতক জমির মধ্যে ২৫ শতক জমি কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে পড়ে যায়।

ব্যাংক সুত্র জানায়, ব্যাংকের দেয়া ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকার দাবিদার হয়ে যায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখা। সেই প্রেক্ষিতে ২৫ শতক জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০৫ টাকার চেকটি ব্যাংকের দিলরুবা হাসানের নামীয় একাউন্ট বরাবর ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবর হস্তান্তর করার শর্তে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক টাকা উত্তোলনের জন্য অনাপত্তিপত্র দেয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দেয়া অনাপত্তিপত্রের শর্ত গোপন করে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো নুরুল ইসলাম ও সার্ভেয়ার শুভ্রত হালদারসহ কতিপয় কর্মকর্তা জমির মালিক দিলরুবা হাসান ও তার স্বামী মো. জানে আলমের সাথে যোগসাজস করে অনৈতিক পন্থার আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রেখে চেকটি ইস্যু ও হস্তান্তর করা হয়। যে চেকটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাউন্টে জমা হওয়ার কথা, সেই চেকটি ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় জমা করা হয় এবং যথারীতি ওই ব্যাংকের একাউন্টে চেকের টাকা ছাড় করার জন্য জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে ফরওয়ার্ডিং করা হয়।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক ওয়াহিদ মো. মুরাদ জানান, তাদের ব্যাংকে একজন গ্রাহক অধিগ্রহণ শাখার একটি চেক জমা করেছিলেন। কিন্তু পরে এসে তিনি চেকটি নিয়ে যান। বাকি বিষয়টি তিনি জানেন না।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাসুদুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে চেক হস্তান্তর ও পরে চেকটি বাতিলের বিষয়টি সঠিক। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার জানান, চেকটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেয়ার কথা ছিল। ভুলবশত চেক গ্রহীতা অন্য একটি ব্যাংকে চেকটি জমা দিয়েছেন। তাই চেকটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি তেমন কিছু না। চেকটি বাতিল করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক করে চেকটি নতুন করে ইস্যু করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •