আব্দুল্লাহ সায়েমঃ

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের দুর্ভোগ কমে না ; বরং বার বার বেড়ে যায়। বর্ষার জল-কাদার দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। কিন্তু নতুন করে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন দুর্ভোগ। নতুন এই দুর্ভোগের নাম ‘ধুলোর অত্যাচার। ধুলোই এখন এই শহরের প্রধান দুর্ভোগ! বলতে গেলে এখন ধুলোবালির নগরীতে পরিণত হয়েছে পর্যটন নগরী।
শহরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি। এর ফলে পুরো বর্ষাকাল জলকাদার অসহনীয় দুর্ভোগে কেটেছে শহরবাসীর জীবন। কিন্তু ধুলোবালিততে এখন কাহিল জনজীবন।
গত একমাস ধরে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কে অধিকাংশ স্থানে ধুলোবালির দাপট চলছে। বিশেষ করে লালদিঘীর পাড় থেকে হলিডে মোড় পর্যন্ত অবস্থা বেশ কাহিল।

অভিযোগ আছে, পানির পাইপ বসানোর জন্য স্থানে প্রতিদিন সড়কের বিভিন্ন স্থানে খুঁড়ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সড়কের খোঁড়াখুঁড়িতে অত্যন্ত দায়িত্বহীন আচরণ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তারা রাতে সড়ক খুঁড়ে পাইপ বসিয়েই দায়িত্ব সেরে নিচ্ছে। দিনের বেলায় এখানে যে যানবাহন আর মানুষ চলাচল করবে সেটি তাদের মনেই থাকে না। তারা পাইপ বসিয়ে সড়ক পুন:চলাচলে ব্যবস্থা না করে যেমন তেমনভাবে ফেলে চলে যাচ্ছে। মাঝরাস্তায় ফেলে যাচ্ছে বড় বড় পাথরের খোয়া। অন্যদিকে খোঁড়াখুড়ির পর সকাল-বিকাল পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তা করছে না জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। যার ফলে ধুলোবালিতে ভরে গেছে শহর। একই সাথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট। এতে অসহনীয় ধুলোবালিতে শহরবাসী কঠিন সময় পার করছে।

যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যেমন বায়ুতে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি বাড়ছে তেমনি রাস্তায় অতিরিক্ত ব্যাটারি চালিত টমটম ও অটোরিকশা’র হর্নে অতিষ্ঠ শহরবাসী।

এই বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, তবে তিনি জানান কক্সবাজার পৌরসভার সাথে যোগাযোগ হয়েছে এ ব্যাপারে, পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে রাস্তায় রোলার এবং পানি ছিটানো হবে।

ধুলোবালির এই অতিষ্ঠতার ফলে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তার ধারের সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, পথচারী আর স্কুল – কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এমনকি অনেকেই মনে করছেন এই মাত্রাতিরিক্ত বায়ু আর শব্দ দূষণের প্রভাবে কক্সবাজারের পর্যটকের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •