এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:
চকরিয়ায় গ্রাম আদালত চলাকালে মোবাইলে লাইভ চালানোর অভিযোগে দুই সহোদরের মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল করার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

জানা যায়, রবিবার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত চলাকালীন সময়ে হারবাং শাহ সুফি মাজারের খাদেম মৃত ফয়েজ আহমদ ফকিরের পুত্র আবুল হাশেম, তার ভাই সাজ্জাদ হোসেন, আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শাহজাহান তাদের ওয়ারিশ সনদপত্রের জন্য পরিষদে যায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদে এসে অফিস কক্ষের বাইরে থেকে লাইভ সম্প্রচার করে গ্রাম আদালত চলাকালীন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কক্ষে প্রবেশ করেন।

সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন কাদের ওনারা কেন আসছে জানতে চাইলে তারা জানায় লাইভ চলছে। সচিব সরকারী কার্যালয়ে বিনা অনুমতিতে লাইভ কেন জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, আমরা ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করে এখানে এসেছি। ইউপি সচিব তৎক্ষনাত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি মোবাইল ফোনে অবগত করলে তিনি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ইউপি সচিব জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশনা মতে বিনা অনুমতিতে লাইভ ধারণকৃত মোবাইল দুটি জব্দ করে ইউএনও স্যারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২টি মোবাইল জব্দ করা হলেও আবুল হাশেম শাহ এর হাতে থাকা মোবাইলে লাইভ ধারণ করে পালিয়ে যায়।

ইউপি সচিব জানান, বিগত ৩/৪ বৎসর যাবত চেয়ারম্যানের সাথে মাজার মসজিদের একটি মিথ্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। উল্লেখিত ঘটনার জের ধরেই আবুল হাশেম শাহ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সচিব কক্ষে প্রবেশ করে বিনা অনুমতিতে লাইভ প্রচার করে অন্য আরেকটি ঘটনা সাজানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত চলাকালীন হঠাৎ কয়েকজন যুবক ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে ফেসবুকে লাইভ প্রচার করায় ইউএনও স্যারের নির্দেশে তাদের মোবাইলগুলো জব্দ করে তাঁর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত চলাকালীন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করায় দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •