সিবিএন ডেস্ক:
বিদেশে বসে নির্দিষ্ট কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিদেশে বসে বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষ নির্দিষ্ট কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে মাঝে মধ্যেই নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এই ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে যে ধরণের সহযোগিতা পাওয়া প্রয়োজন সবসময় সে ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এজন্য আমরা সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে যেমন আলোচনা করছি একইসাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে সমস্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে যে সমস্ত দেশ থেকে এই অপপ্রচারগুলো চালায় সেই সমস্ত দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট ফ্রন্টিয়ার (রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস) প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে একটি আপত্তিকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে। আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেটির প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা জানিয়েছিলাম এটা সংশোধন করা না হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। রিপোর্টার উইদাউট ফ্রন্টিয়ারের অফিস ফ্রান্সে। ফরাসি আইনে ফরাসি আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ইউটিউবে যেসব অশ্লীল কন্টেন্ট দেখানো হয়, একই সঙ্গে রাষ্ট্রসহ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোও হয়, সেগুলো বন্ধ করার কোনো সুযোগ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এগুলোর সার্ভিস প্রোভাইডার হচ্ছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বা অন্যান্য যেসকল প্লাটফর্মে দেখানো হয়, সেসকল কর্তৃপক্ষ। তাদের বলা হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে সাড়া পাওয়া যায়, অনেকক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আরও জোরালো ব্যবস্থা যাতে নেওয়া যায়, সেজন্য আমরা সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে আলোচনায় আছি। অনেকটা এগিয়ে এসেছে, আমরা আশায় আছি। সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুকসহ অন্যান্য প্লাটফর্মকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাদের অফিস খোলার জন্য। বাংলাদেশে যখন এসব কোম্পানি নিবন্ধিত হবে, তখন বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এ সমস্ত কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটা সহজ হবে। এ ধরনের কন্টেন্ট সরানো বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলো দূর হবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ওটিটি প্লাটফর্মে কোনো কন্টেন্ট রিলিজ করতে এখন কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ওটিটিতে সিনেমা রিলিজ করতে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, নাটক প্রকাশ করতেও কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিংবা ওয়েবসিরিজ আকারে প্রকাশ করার জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওটিটির প্রতিটি কন্টেন্ট সেন্সর করা দুরূহ কাজ। বছরে ৫০টি বা ১০০টি সিনেমা রিলিজ হয়, সেগুলো সেন্সর করা সহজ। কিন্তু বছরে শত শত, হাজার হাজার কন্টেন্ট ওটিটিতে প্রকাশ পায়, সেগুলো সেন্সর করা দুরূহ কাজ। সে কারণে ভারতে যেভাবে করা হচ্ছে এবং অন্যান্য দেশে যেভাবে করা হচ্ছে, সেভাবে একটি নীতিমালার খসড়া আমরা করেছি। সেটা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা জারি করবো।

সাংবাদিকরা এ সময় বিএনপি’র ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবি’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র ভুলের পুণরাবৃত্তি তাদের জন্য আত্মহননমূলক হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •