সিবিএন ডেস্ক:
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।’

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শেষে গণভবনের মূল দরজায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরবর্তী (দ্বাদশ) নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের বিভিন্ন উপ-কমিটিগুলোর সেমিনারের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচনের যে ইশতেহার হবে, সেখানে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে; সেগুলো আপডেট করার জন্য উপ-কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় আমরা কী কী অন্তর্ভুক্ত করবো তা তুলে ধরা হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মেইনলি ৮টি বিভাগের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের বক্তব্য তিনি (নেত্রী) শুনেছেন কার্যনির্বাহী সভায়। চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেশে নেই, সেখানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের অন্য নেতারা ৮ বিভাগের ওপর নিজেরা লিখিত রিপোর্ট করেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাদের এলাকার ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যন্ত রাজনৈতিক চিত্র কী তা জানিয়ে রিপোর্ট উত্থাপন করেছেন নেত্রীর সামনে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা আছে এবং যেগুলো সমাধান করা দরকার, সেগুলোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভাপতি। কিছু কিছু ছোটখাটো কলহ-বিবাদ আছে, সেগুলোও মীমাংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পাবনায় গত পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই বিদ্রোহ করেছেন, পৌর এবং সদর এলাকার নেতারা। তারা ক্ষমা চেয়ে একটা চিঠি পাঠিয়েছেন; প্রায় ২০ জন নেতা। তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আবার উনি (শেখ হাসিনা) এটাও বলেছেন, যারা দলের ডিসিপ্লিনের বাইরে কাজ করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ব্যাপারে ছাড় দেওয়া যাবে না।’

‘বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চলছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে’ জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততই অপপ্রচারের মাত্রা বাড়ছে। অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে সরকারের বিরুদ্ধে। এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। চক্রান্তমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের জানান, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের প্রতি। তারা সারাদেশে ঘুরে ঘুরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য তিনি খুশি হয়েছেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

নোয়াখালীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখানে কোনও কথা হয়নি। সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন আলাপ-আলোচনা করে একটা কাঠামো তৈরি করেছে নোয়াখালীর কমিটি নিয়ে। এ ব্যাপারে নেত্রীও অবহিত আছেন। স্বপন এখন দেশের বাইরে আছে। ফিরে এলে প্রকাশ করা হবে।’

মির্জা আবদুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আপনি অব্যাহতি চেয়েছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •