সিবিএন ডেস্ক: কেউ হয়রানি করলে তাকে আঘাতের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বলা যায়। কিন্তু অক্টোপাসের মধ্যেও এ ধরনের অভ্যাস থাকার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা দেখেছেন, জ্বালাতনকারী পুরুষ অক্টোপাসের দিকে ছোট ছোট নুড়িপাথর, শামুক-ঝিনুকের খোলসের টুকরো বা কোনো কিছুর ধ্বংসাবশেষ ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে নারী অক্টোপাস।

সম্প্রতি প্রি-প্রিন্ট সার্ভার বায়োআরক্সিভে প্রকাশিত ও পিয়ার-রিভিউ না হওয়া এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী নারী অক্টোপাস শুঁড়ের সাহায্যে বিভিন্ন বস্তুর ছোট ছোট টুকরো সংগ্রহ করে তা পানির তীব্র প্রবাহের (জেট অব ওয়াটার) সঙ্গে অন্য অক্টোপাসের দিকে নিক্ষেপ করছে।

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির স্কুল অব হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি অব সায়েন্সের পিটার গডফ্রে-স্মিথসহ গবেষকরা বলেছেন, কিছু নিক্ষেপ অন্যদের লক্ষ্যবস্তু বানায় ও ‘সামাজিক ভূমিকা’ পালন করে বলে মনে হয়েছে। কিছু নিক্ষেপ হাতের (শুঁড়) নিচ থেকে ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সেগুলো অন্য অক্টোপাসকে আঘাত করার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

jagonews24

২০১৫ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে অক্টোপাসের অদ্ভুত এ আচরণ লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা। অবশ্য বাসা তৈরির কাজেও এভাবে পাথর ছোড়ার বুদ্ধি কাজে লাগায় অক্টোপাস।

গবেষণায় মোট ১০১টি নিক্ষেপকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি নিক্ষেপ ছিল ‘সামাজিক প্রেক্ষাপটে’, আর অর্ধেকেরও বেশি ছিল ‘আংশিকভাবে সামাজিক’।

সামাজিক নিক্ষেপ বলা হচ্ছে মূলত, যেসব ঘটনা অন্য অক্টোপাসের কাছাকাছি আসার দুই মিনিটের মধ্যে ঘটেছে সেগুলোকে। এসব ঘটনা দুটি অক্টোপাসের মধ্যে লড়াই, সঙ্গমের চেষ্টা বা অন্য কোনো আচরণের আপাত প্রতিক্রিয়া হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাথর ছোড়া ২৪টি অক্টোপাসের মধ্যে ১১টিই এ কাজ করেছে সামাজিক প্রেক্ষাপটে। তবে এসব ঘটনায় যে অক্টোপাসগুলোর গায়ে আঘাত লেগেছে, তাদের কেউই পাল্টা পাথর ছোড়েনি বা লড়াই শুরু করেনি।

২০১৬ সালে একটি নারী অক্টোপাস পার্শ্ববর্তী একটি পুরুষ অক্টোপাসের দিকে ১০বার পাথর ছুড়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটি তাকে আঘাত করে। বারবার সঙ্গমের চেষ্টা করা ওই পুরুষ অক্টোপাসটি শুধু তার দিকে ছোড়া পাথরগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, একবারও পাল্টা আক্রমণ করেনি।

সূত্র: আইএএনএস, এমএসএন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •