দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক যুবলীগ কর্মীসহ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার রাতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারসহ ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সামিয়ারপাড়া এলাকার মো. সোলাইমানের ছেলে ও স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ ফারুক আজিজ (৩১), একই ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার খায়ের আহমদের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম ওরফে রিমন (২৪) ও ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ পূর্বপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে কুমিল্লার চান্দিনার বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী সুমন কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার শিশুতল এলাকায় পৌঁছালে অপর মোটরসাইকেল আরোহী তিন তরুণ তার মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে দাঁড়ান। এ সময় তাঁরা নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে সুমনের ব্যাগটি কেড়ে নেন এবং ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান।
পরে গত শনিবার সকালে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুমন সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শনিবার রাত ১০টার দিকে কেরানীহাটের একটি রেস্তোরাঁর সামনে থেকে মোহাম্মদ ফারুক আজিজকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীহাটের কাঁচা বাজারের একটি ভবনের সামনে থেকে ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলসহ সাইদুল ইসলাম ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ফারুক নিজেকে যুবলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করেন। তাদের গ্রুপটি কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এলাকার লোকজন তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ট। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ফারুক আজিজের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় আটটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এলাকায় খারাপ ছেলে হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকেই জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •