আবু সায়েম:
কক্সবাজারে দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন ধোয়াপালং রেঞ্জের খুনিয়াপালং বিটে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট দিয়ে বন্যহাতি হত্যার মূল হোতা নজির আহমদকে আটক করা হয়েছে।
১লা সেপ্টেম্বর ধোয়াপালং রেঞ্জের খুনিয়াপালং বিটে মর্মান্তিক এ হাতি হত্যার ঘটনা ঘটে।
হাতি হত্যার সাথে জড়িত প্রধান আসামি নজির আহমদকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা বাদি হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ১২ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং রামু থানায় সাধারণ ডায়েরি রুজু করেন।
হাতি হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির , সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ওসি তদন্ত ( রামু) পুলিশ সদস্য এবং ভেটেনারি সার্জন, রামু ভেটেনারি সার্জন,দুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক স্থানীয় চেয়ারম্যান, সহকারী বনসংরক্ষক, রেঞ্জ কর্মকর্তা বিট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বনবিভাগ সূত্রে জানায়, ১ লা সেপ্টেম্বর রাতে ধোয়াপালং রেঞ্জের খুনিয়াপালং বিটে গাইনপাড়া নামক জায়গায় ব্যক্তিমালিকনাধীন জায়গায় বন্য হাতি যার আনুমানিক বয়স( ২৫) বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট দিয়ে বন্যহাতি হত্যা করে ধানক্ষেতে মাটি চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।
বিষয়টি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে অবগত করলে সাথে সাথে তিনি তড়িৎ ব্যবস্থা এবং জড়িত আসামীদের আইনের আওতায় আনতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
অথচ বিগত বেশ কিছু দিন আগে এই গাইন পাড়াতেই বন্য হাতি হত্যা এবং মানুষ- হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে সচেতনতা সভা, লিফলেট বিতরণ বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হয়েছিলো,এবং জনসমাগম স্থানে দেওয়ালে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে আরো জানায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির নিজেই জনসচেতনতামূলক সভায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মানুষ – হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে বিভিন্ন সভার আয়োজন করে মানুষ কে সচেতন এবং বন্যহাতিদের আঘাত না করার জন্য বন্যহাতি রক্ষায় বিভিন্ন অনুপ্রেরণা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পাদন করেন। উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করে বন্যহাতি রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকার পাশাপাশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বনবিভাগ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পাদন করলেও কিছু দুষ্কৃতকারীরা বন্যহাতি নিধনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।যার বহিঃপ্রকাশ খুনিয়াপালং বিটে পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে বন্য বন্য হাতিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট দিয়ে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে ধানক্ষেতে মাটি চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাই।
এসব দুষ্কৃতকারীদের ব্যাপারে বনবিভাগের কর্মকর্তারা সজাগ ও সতর্ক থাকলেও রাতের আঁধারে তারা তাদের পৈশাচিক কর্মকাণ্ড করে আসছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা,মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা রাত দিন পরিশ্রম করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করলেও কিছু দুষ্কৃতকারীরা বনবিভাগের অর্জন কে ম্লান করে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টাই মেতে উঠেছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, গতকালের এ ঘটনায় আমরা খুবই হতবাক হয়েছি,মানুষ কিভাবে বন্যহাতিকে এমন পৈশাচিক ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে আবার মাটি চাপা দেওয়ার ঘৃণ্যতম কাজে মেতে উঠতে পারে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি নজির আহমদকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ( ২০১২) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। বন্যহাতি হত্যায় জড়িত ১২ আসামিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা এবং রামু থানায় সাধারণ ডায়েরি রুজু করা হয়েছে। হাতি হত্যার সাথে জড়িত বাকি ১১ আসামী ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বনবিভাগ বন্যহাতি রক্ষা এবং বন্যহাতিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিমিত্তে হাতি আবাসস্থল উন্নয়নে বহুমুখী কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।এমনকি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায়, ১৬ টি Elephant responses team গঠন করা হয়েছে এবং আরো ২০ টি মতো ( ERT) team গঠন প্রক্রিয়াধীন। মানুষ – হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক সভা এবং মাইকিং করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ, বন্যহাতি রক্ষা বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বেশি জোরদার করার জন্য বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক সভা লিফলেট বিতরণ,জনসমাগম জায়গায় পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বহুমুখী কার্যক্রম সম্পাদন এবং বন্যহাতিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করলেও মাঝে মধ্যে লোকালয়ে বন্যহাতি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করছে। তারপরও বনবিভাগ আগের চেয়ে আরো বেশি সচেতন এবং জোরাল
ভুমিকা পালন করছেন। গত এক থেকে দেড় বছরে বনবিভাগের এলাকায় প্রতিনিয়ত হাতির পালের সাথে বাচ্চা হাতি দেখা যাচ্ছে।যা বন্যহাতি বিস্তারও প্রসারে চমৎকার ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী ।গত ১ বছরে বনবিভাগের এলাকায় ১২ থেকে ১৫ টি বাচ্চা হাতি জন্ম দিয়েছে যা বন্যহাতিদের আবাসস্থল তৈরি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুফল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •