বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় সিবিআইইউ সম্পর্কিত যেসব সংবাদ ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক। এই সংবাদের উৎস হিসেবে দেখানো যে সংগঠনিটির কথা বলা হয়েছে- এটি একটি নামসর্বস্ব, অনিবন্ধিত ও কাগুজে সংগঠন। এতে যারা জড়িত এদের অনেকেই জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ও সাবেক বিওটি সেক্রেটারি লরেল মুজিবুর রহমানের পক্ষভুক্ত ও মদদপুষ্ট। তারা সিবিআইইউ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সাফল্যের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে- তা ভিত্তিহীন ও অনাকাক্ষিত।

সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, ট্রাস্টি বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক সেক্রেটারি লরেল মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের জুনের পূর্ববর্তী সময়ে যে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ভিসি প্যানেল ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেজারার এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তারও একটি প্যানেল বিধি মোতাবেক প্রেরণ করা হয়। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে উপাচার্য ও ট্রেজারার প্যানেল অনুমোদনে বিলম্বিত হচ্ছে। যা এখনো সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন। বিওটি’র সাবেক সেক্রেটারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি ক্রয়ের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত ট্রেজারার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।

অন্যদিকে বিওটি’র সাবেক সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এফডিআর এর টাকা ইউজিসি’র অনুমতি ব্যতিরেকে উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। লুটপাট করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় সাবেক সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে মাত্র ৩০০/- টাকা রেখে যান। এছাড়া সাবেক বিওটি সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান ইতোমধ্যে চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সাবেক বিওটি সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান কর্তৃক এহেন লুটপাটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয় এবং ইউজিসি’র নির্দেশক্রমে নতুন করে এফডিআর করা সহ ইউজিসি’র নির্দেশনা অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে চলছে। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জ্ঞাত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে ১৭০০ শিক্ষার্থী পাশ করে সনদ না পেয়ে চাকুরী কিংবা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইহা একটি মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ। কারণ সাত বছরে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭০০ শিক্ষার্থী পাশ করে বের হয়নি। যারা বের হয়েছে তাদের মধ্যে বহু শিক্ষার্থী সাময়িক সনদপত্র এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জতিক সংস্থা, ব্যাংক, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকুরীরত। আইন বিভাগ থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে এবং সর্বশেষ নিবন্ধন পরীক্ষায় ৭ জন শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য অপেক্ষমান। এই বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ও বিদেশী বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। সুতরাং এই ধরণের মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অযোগ্য শিক্ষক নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগকৃত শিক্ষকরা বিধি মোতবেক নিয়োগকৃত। তাঁরা দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

করোনা মহামারীর সংক্রমনের কারনে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ইউজিসি’র নির্দেশনা মোতবেক সিবিআইইউ সফলতার সাথে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করে যথাসময়ে সেমিস্টার শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ফ্লোর থেকে দুটি ফ্লোর ছেড়ে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়ার খবরটি জঘন্য মিথ্যাচার। আমরা কক্সবাজারের সুশীল সমাজসহ সচেতন নাগরিকদেরকে সরেজমিন তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানাই।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ও চমৎকার। হিসাব বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে। পূর্বের মতো আর্থিক অব্যবস্থাপনার সুযোগ নেই। ব্যাকিং চ্যানেলে যাবতীয় খরচ নির্বাহ হয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা বর্তমানে সšদষ্টির সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কাল্পনিক। তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে চলেছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর
আস্থাভাজন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হিসেবে সততার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

উপাচার্য ও ট্রেজারার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কক্সবাজারের একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার ইন্টারন্যশানাল ইউনিভার্সিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় আমরা কক্সবাজারের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষানুরাগীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণকে আমাদের ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং কক্সবাজারবাসীকে প্রদত্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয় এই বিশ^বিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় এবং এর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার পথচলায় ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করছি।

নিবেদক

কুতুব উদ্দিন
সহকারি রেজিস্টার [পিআর]
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •