অনলাইন ডেস্ক: দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে রাজশাহীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পরে পুলিশ গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে রাস্তার অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে প্রতীকী অনশন শুরু করে।

এ সময় পুলিশের সামনেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল যুবক। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মারধর করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। ঘটনার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন, রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইশতিয়াক আহমেদ, নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাদিম সিনা।

শিক্ষার্থী তামিম সিরাজী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা শান্তভাবে অনশন কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় একদল যুবক এসে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এতে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশের সামনে এ হামলা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

হামলায় আহত নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাদিম বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা করেছে। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করেছে।

তবে এ হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের হামলার কথা মিথ্যা। নগর ছাত্রলীগের নেতারা ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে এসেছে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল যুবক এসে হামলা চালায়। তবে, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কারা এ হামলা চালিয়ে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •