সংবাদদাতা:
ঢাকা সাভার এলাকার শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাসা থেকে চুরি হওয়া সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার দামের মোটর সাইকেল ৯৪ দিন পর কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দুই যুবককে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তারা হলেন- ঈদগাঁও হাজিপাড়ার মৃত হাজী বশরত আলীর ছেলে নুরুল হক এবং খোদাইবাড়ি এলাকার মৃত মোঃ হোসেনের ছেলে শাহাব উদ্দিন।
চোরচক্রের মুল হোতা ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলেজার পাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ বর্মাইয়া জাহেদ। সে গা ঢাকা দিয়েছে।
মোটর সাইকেল মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯৪ দিন আগে ঢাকা সাভার এলাকার তার বাসার নিচ তলা থেকে বাইকটি চুরি হয়। ঘটনার পরপরই সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নিতে থাকেন মালিক। একপর্যায়ে খবর পান গাড়ীটি কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় রয়েছে। এমন খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন মালিক। গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। পরে গাড়ীটি দরগাহ পাড়া রোডের সামনে দাঁড় করা অবস্থায় দেখতে পান।মালিক শরিফ সেখানে পৌঁছার আগেই গাড়ীটি উধাও হয়ে যায়। পরে খবর পান গাড়ীটি ভিলেজার পাড়া এলাকার শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট জাহেদ থেকে জনৈক ব্যক্তি ক্রয় করেছে। জিডিমূলে ঈদগাঁও থানাকে অবগত করলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হালিমের নির্দেশে এসআই রেজাউল করিম অভিযান চালিয়ে স্টেশন থেকে দুই যুবককে আটক করে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থানার সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটর বাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সংশ্লিষ্ট আইনের মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করেন দুই যুবককে।
এদিকে বাইকটি মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়িটি পাওয়ার পর চোর চক্রের প্রধান জাহেদকে আসামি করে মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ জোর করে নিরপরাধ দুই যুবককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করেন। তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই মর্মে বলে জবানবন্দি দিবেন বলেও জানান।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, চোর চক্রের প্রধান জাহেদ তার নিজস্ব গাড়ী নিয়ে ঢাকা শহরে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে পরিচিত হয় ঢাকা সাভার এলাকার জনৈক যুবলীগ নেতার সাথে। তার সাথে গভীর সংখ্যতা গড়ে তুলে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা পৌঁছে দিত জাহেদ।
ওই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ছিল জাহেদ। জাহেদ ঢাকা থেকে কৌশলে বাইকগুলো ঈদগাঁওতে এনে পুরো জেলা শহরে কম দামে বিক্রি করত। জাহেদ ইয়াবা পাচার ও বাইক চুরি করে গাড়ীর হেলফার থেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে এখনো কারাগারে রয়েছে দুই যুবক। গড়ে তুলছে নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়। কিনেছে জমি, গাড়ী ঘরবাড়ি। রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার রহস্য উদঘাটন করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। শাহাব উদ্দিনের বেড়ে ‍উঠার পেছনে তার ভাইদের হাত রয়েছে। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি দরকার মনে করছে স্থানীয়রা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •