পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কপিল উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের পায়ে চার কোপ ও পুরো শরীরে হাতুড়ি পেটা করে টাকা আর মোবাইল ছিনতাই করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউপির শুদ্ধখালী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে আহত যুবক।

গুরুতর আহত কপিল উদ্দিন (২২) একই এলাকার আবদু শুক্কুরের ছেলে ও মৎস্য পোনা ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত।

এ ঘটনায় আহতের চাচা মনছুর আলম বাদী হয়ে মহুরী পাড়া এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে রুকন উদ্দিন, নুন্যার পাড়ার আহমদ কবিরের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন,
মহুরী পাড়ার জহির উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন কলিম উল্লাহর ছেলে আলী আজগর, মো: ছলিমের ছেলে মো: ফোরকান সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে বিবাদী করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন, আহত কপিল উদ্দিন (২২) মৎস্য পোনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ঘটনার দিন তার ভাতিজা কপিল পোনা বিক্রি করে বাড়িতে চলে আসার সময় জিয়াবুলের দোকানের সামনে তাকে গতিরোধ করেন সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা।

ওই সময় তার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার কথা বলে হাতুড়ি পেটা শুরু করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে লুটিয়ে পড়া যুবকের পা লক্ষ্য করে কিরিচ দিয়ে একে একে চার কোপ দিয়ে পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। ওই সময় আহত কপিল উদ্দিনের হাতে থাকা স্মাট ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতের চাচা মনছুর আলম বলেন, আমার ভাতিজা খুবই নিরহ ও শান্ত প্রকৃতির যুবক। তার সাথে কারো কোন বিরোধ ছিলনা। মৎস্য পোনার ব্যবসা করতে গিয়ে বেশ কিছু টাকা পাওনা আছে বিবাদীদের কাছ থেকে। ওই টাকা পরিশোধ না করতে এবং তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় মোজাম্মেলন ও রুকনের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তার ব্যবসার টাকাও ছিনতাই করে তারা। এ ঘটনার পর থানায় লিখিত এজাহার দেয়ার পর সোমবার পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছেন। তার পায়ে কোপ দেয়া ছবিগুলোও দেখিয়েছি। আশা করি থানা প্রশাসন দ্রুত মামলা রেকর্ড করে আমাদেরকে আইনী সহায়তা দিবেন।

পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত বলেন, মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অবশ্যই আইনী সহায়তা পাবে।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক কানন সরকার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। যারাই এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা হবে।